
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৪ আগস্ট (হি. স.) : দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় এলাকায় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দুর্ঘটনার জেরে এক নিষ্পাপ শিশু মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। পরিজনেরা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে রাঁধুনি ও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটি প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবারও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়েছিল। অভিযোগ, ঘটনার সময় কেন্দ্রে নিযুক্ত রাঁধুনি এবং শিক্ষিকা—উভয়েই অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের জায়গায় এক প্রক্সি বা প্রতিনিধি একা হাতেই বাচ্চাদের পড়ানো, দেখভাল করা এবং খাবার তৈরির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। সেই সময়ই রান্না করার জন্য রাখা ফুটন্ত জলের পাত্রটি শিশুটির ওপর উল্টে পড়ে।
পরিবারের অভিযোগ, গরম জলে শিশুটির বুক, হাত ও শরীরের একাধিক অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছে। তাকে সঙ্গে সঙ্গে জিরানগাছা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার আর. জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবারের মতে, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রচুর সংখ্যায় গ্রামবাসী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একই ব্যক্তির ওপর শিশুদের দেখভাল ও রান্না করার মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সঁপে দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাসিন্দারা। তাঁরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।
খবর পেয়ে পোল পোলেরহাট থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সময় কে দায়িত্বে ছিলেন, নিযুক্ত রাঁধুনি ও শিক্ষিকা কেন অনুপস্থিত ছিলেন এবং কোন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্ত নিয়মকানুন মেনে চলা হচ্ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এলাকায় উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রে কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি