
ক্যানিং, ৪ আগস্ট (হি. স.): অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল ক্যানিংয়ের ঘুটিয়ারীশরীফ এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী তথা হেরোইন ব্যবসার অন্যতম মাথা পিন্টু ওরফে শফিক লস্কর। ক্যানিং ২ ব্লকের এক সময়ের তৃণমূল নেত্রী রহিমা লস্কর ওরফে বেবির ভাই এই পিন্টু। সম্প্রতি তারা দুজনেই বিজেপির ঝান্ডা ধরেছেন।
এই পিন্টুর বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক চক্র চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শুধুমাত্র ঘুটিয়ারিশরীফ নয়, গোটা জেলা এমনকি গোটা রাজ্যেই ছড়িয়ে রয়েছে এই পিন্টুর মাদক চক্র। তার সাগরেদরা বারে বারে ধরা পড়লেও এই পিন্টুকে সেভাবে ধরতে পারেনি পুলিশ। অনেকবারই তার বাড়ি সহ অন্যান্য ডেরায় তল্লাশি চালিয়েও পিন্টুর হদিস পায়নি পুলিশ। তবে সোমবার পিন্টুর বাড়িতে আচমকা তল্লাশি চালালে ধরা পরে অভিযুক্ত। যদিও পুলিশকে দেখে ছুটে পালানোর চেষ্টা করেছিল সে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বন্দুকও উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়েছে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনায় আরও তদন্ত করতে চাইছে পুলিশ।
এসডিপিও ক্যানিং মোত্তাকিনুর রহমান বলেন, “ ধৃতের বিরুদ্ধে বহু ওয়ারেন্ট রয়েছে। তার ভিত্তিতে তল্লাশি চালালে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধরা পড়ে অভিযুক্ত। ধৃতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”
যদিও পিন্টুর দাবি তিনি রাজনৈতিক হিংসার শিকার। তিনি এবং তাঁর দিদি সকলেই তৃণমূল দল করতেন। কিন্তু সওকাত মোল্লার অত্যাচারে তারা দলের মধ্যেই কোনঠাসা হয়ে পড়েন। তাই গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির ঝান্ডা ধরেন। পিন্টু বলেন, “ ভোটের আগে এলাকায় বিজেপির পোস্টার, শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টার মেরেছিলাম। সেই কারণে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করে সওকাত মোল্লা। আমার বাড়ি, জমি হাতিয়ে নিয়েছে সওকাত। মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে আমার নামে।”
যদিও পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে ঘুটিয়ারিশরীফ এলাকা হেরোইনের আঁতুড় ঘর তৈরি হয়েছে এই পিন্টুর জন্যই। দূর দুরান্ত থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা এখানে হেরোইন কিনতে আসেন। বহুবার পিন্টুর বিভিন্ন লোকজন পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে হেরোইন সহ। কিন্তু তবুও এই ব্যবসা বন্ধ হয়নি। সূত্রের খবর, পিন্টুর হাত পুলিশ মহলের অনেক উঁচু পর্যন্ত রয়েছে, তাই এতদিন সেভাবে কেউই তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বিজেপি নেতা সমীর মণ্ডল বলেন, “ সময় বদলেছে। রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এই পিন্টুর মত দুষ্কৃতিরাও ধরা পড়তে শুরু করেছে। বিজেপির ঝান্ডা ধরলেই রেয়াত করা হবে না, এটা তার স্পষ্ট বার্তা।”
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা