
কলকাতা, ৪ আগস্ট (হি. স.) : কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তথা তথাকথিত সুপারি কিলার কালেবর সিং (৫৮)-এর চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর পুরুলিয়া সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেট-এর উপস্থিতিতে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। বুধবার ময়নাতদন্তের পর দেহ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
তপন কান্দু হত্যা মামলায় গ্রেফতারির পর কালেবর সিংকে পুরুলিয়া জেলা সংশোধনাগারে রাখা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় চার মাস আগে তাঁকে পুরুলিয়া সরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর স্ত্রী প্রতিমা দেবী জানান, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জামিনের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। তাঁর স্বামী এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন, তবে এ নিয়ে তাঁর কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ পুরুলিয়া জেলার ঝালদা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুকে প্রাতঃভ্রমণের সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
প্রথমে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের ভার কেন্দ্রীয় অন্বেষণ সংস্থা (সিবিআই)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালীন ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার গৈছাদ গ্রামের বাসিন্দা কালেবর সিংকে গ্রেফতার করে সিবিআই। ২০২২ সালের জুন মাসে সিবিআই এই ঘটনায় দীপক কান্দু, কালেবর সিং, নরেন কান্দু, মহম্মদ আশিক ও সত্যবান প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে। কালেবর সিংয়ের মৃত্যুর ফলে এই বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই। এর আগে ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর অপর অভিযুক্ত সত্যবান প্রামাণিকেরও অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয়েছিল।
বর্তমানে এই মামলার আরও দুই অভিযুক্ত নরেন কান্দু ও দীপক কান্দু কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও জারি রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি