
কলকাতা, ৪ আগস্ট (হি. স.) : বীরভূমের চর্চিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত মামলায় পুলিশের তদন্ত ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। জেলা পুলিশের দাবি, এ পর্যন্ত এই মামলায় প্রায় ২২০ কোটি টাকার নগদ অর্থ এবং সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যেই টুলুর ব্যবসার ম্যানেজার সিতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতারের পর তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার গভীর রাতে সিতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করে। সোমবার তাকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার সকালে জানান, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন সিতেশের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। এছাড়া পুলিশ নকল ডিসিআর (ডিমান্ড কালেকশন রসিদ) ছাপানোর মেশিনও উদ্ধার করেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির অভিযোগ, এই ভুয়ো রসিদ ব্যবহার করেই অবৈধ পাথর পরিবহন ও পাচার করা হতো।
টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ পাথরের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের মতে, এই পুরো ব্যবসাকে মদত দেওয়ার পেছনে পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির ভূমিকা থাকতে পারে। উদ্ধার হওয়া ডায়েরিতে নাম প্রকাশ্যে আসার পর এখন এই সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা পুলিশের তরফ থেকে জানা গেছে, টুলু মণ্ডল বিদেশে থাকা সত্ত্বেও নিজের এলাকা থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছিল। পুলিশের আরও দাবি, এই ভুয়ো ডিসিআর চক্রটি এখনও সক্রিয় রয়েছে।
গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদবাজার থানা এলাকায় পাথর বোঝাই একটি ডাম্পারের নথিপত্র পরীক্ষা করার সময় ভূমি ও রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা ভুয়ো ডিসিআর-এর বিষয়টি ধরতে পারেন। চালকের জমা দেওয়া ডিসিআর -এর নম্বর সরকারি রেজিস্টারে ছিল না। এরপর ভূমি ও রাজস্ব দফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদবাজার থানায় মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই মামলাতেও টুলু মণ্ডলকে অভিযুক্ত করা হতে পারে।
এর আগে রাজ্য সরকারও বিষয়টিকে অত্যন্ত মারাত্মক বলে জানিয়েছিল এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের কারণে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। সরকার টুলু মণ্ডল ও তার আত্মীয় মিনারের ঠিকানা থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া নগদ টাকা, সোনা, নথিপত্র এবং অন্যান্য সম্পত্তির বিবরণও প্রকাশ করেছিল। এখন বীরভূমের পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন যে তদন্ত চলাকালীন এ পর্যন্ত প্রায় ২২০ কোটি টাকা মূল্যের নগদ ও সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে যে মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি