
মোহনপুর (ত্রিপুরা), ৪ আগস্ট (হি.স.) : পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় রাবার বাগানে অজানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন রাবার চাষিরা। বিশেষ করে বামুটিয়া এলাকার একাধিক রাবার বাগানে গাছের পাতা লাল ও হলুদ রঙ ধারণ করে অসময়ে ঝরে পড়ছে। এর ফলে রাবার গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
সম্প্রতি বামুটিয়ার জলিলপুর-সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন রাবার বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাঁরা আক্রান্ত গাছ পরীক্ষা করে রোগ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে চাষিদের পরামর্শ দেন এবং নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কৃষকরা।
চাষিদের অভিযোগ, রাবার বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী যে ওষুধ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, তার দাম অত্যন্ত বেশি। পাশাপাশি রাবার গাছের উচ্চতা বেশি হওয়ায় গাছের উপরের অংশে ওষুধ স্প্রে করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেকেই নিজস্ব উদ্যোগে কয়েকজন মিলে একটি স্প্রে মেশিন কিনে তাতে বাঁশ বেঁধে উঁচুতে ওষুধ ছিটানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, ঝুঁকিপূর্ণ এবং খুব একটা কার্যকর নয় বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক ক্ষতিগ্রস্ত রাবার বাগান পরিদর্শন করে চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কৃষকদের সমস্যা সংশ্লিষ্ট দফতরের নজরে আনার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্থানীয় রাবার চাষিদের দাবি, বর্তমান সময়ে কৃষিক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা এখনও পৌঁছায়নি। ড্রোনের মাধ্যমে দ্রুত ও সমানভাবে গাছের মাথায় ওষুধ স্প্রে করা সম্ভব হলে শ্রম, সময় এবং খরচ—সবই কমবে। তাই রাবার বোর্ড ও রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত ড্রোনভিত্তিক স্প্রে পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রাবার চাষ ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান অর্থকরী কৃষি। এই পরিস্থিতিতে রোগের প্রকোপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও চাষিরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ