
আগরতলা, ৪ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরার শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার কের পূজা মঙ্গলবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও প্রথা মেনে পালিত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কের পূজার আয়োজন হলেও মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয় আগরতলায় ঐতিহাসিক উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে। সেখানে রাজ্যবাসীর শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
প্রথা অনুযায়ী উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে কের পূজার সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন খার্চি পূজার প্রধান পুরোহিত তথা রাজ চন্তাই। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও নির্ধারিত ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে অনুষ্ঠিত হয় পূজার মূল পর্ব। কের পূজার ঐতিহ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পূজাস্থলে কঠোর নিয়ম ও বিধিনিষেধ পালন করা হয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা পূজাস্থলে উপস্থিত হয়ে সমস্ত ধর্মীয় রীতি ও সংস্কার মেনে পূজায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি-র প্রদেশ সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা-সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পূজা শেষে মুখ্যমন্ত্রী ও উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং প্রতিটি নাগরিকের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা জানান। তবে কের পূজার ধর্মীয় গুরুত্ব ও প্রচলিত রীতিনীতি অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরার রাজপরম্পরার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত কের পূজা মূলত রাজ্যকে অশুভ শক্তি, মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আজও সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এই পূজা পালিত হয় এবং উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের মূল পূজাকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ