বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধান চাষে ফলন ও আয় বাড়বে : কৃষিমন্ত্রী রতনলাল
মোহনপুর (ত্রিপুরা), ৪ আগস্ট (হি.স.) : উন্নতমানের বীজ এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধান চাষের মাধ্যমে কৃষকদের অধিক ফলন ও আয় নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। মঙ্গলবার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের মোহন
ধান চারা রোপন করলেন কৃষিমন্ত্রী


মোহনপুর (ত্রিপুরা), ৪ আগস্ট (হি.স.) : উন্নতমানের বীজ এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধান চাষের মাধ্যমে কৃষকদের অধিক ফলন ও আয় নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। মঙ্গলবার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের মোহনপুর কৃষি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে মোহনপুর আরডি ব্লকের অন্তর্গত গজারিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে আয়োজিত আমন ধান চারা রোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকরাই দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা সচল থাকে। তাই কৃষকদের যথাযথ সম্মান জানানো এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করা সরকারের পাশাপাশি সমাজেরও দায়িত্ব। তিনি বলেন, মাটির গন্ধ, কাদা মাখা পা আর কৃষকের মুখের অকৃত্রিম হাসিই আমাদের গ্রামীণ জীবনের প্রাণ। জন্মলগ্ন থেকেই আমরা কৃষির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কৃষি ও পরিবেশ—উভয়ের সুরক্ষাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

তিনি জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কৃষকদের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় রাজ্য সরকারও উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এমআইসিএমপি প্রকল্পের আওতায় এসআইআর পদ্ধতিতে ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতি কানি জমির জন্য রাজ্য সরকার ১,২৪৪ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। বর্তমানে মোহনপুর কৃষি মহকুমায় প্রায় ৪ হাজার ২০০ কানি জমিতে ৩ হাজার ৫০০ জন কৃষক এসআইআর পদ্ধতিতে ধান চাষ করছেন, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি কৃষকদের কৃষি নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি খরচও কমবে এবং লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি তিনি কৃষকদের জমি খালি না রেখে জমির উপযোগী ফসল চাষের পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান রাকেশ দেব, ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জীব কুমার দাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সদস্য জয়লাল দাস, কৃষি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা হিরেন্দ্র দেববর্মা, উপ-অধিকর্তা সঞ্জীব দেববর্মা, মোহনপুরের কৃষি তত্ত্বাবধায়ক সুমিত্র দে, সমাজসেবী কার্তিক আচার্যসহ কৃষি দফতরের অন্যান্য আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বহু কৃষক।

কর্মসূচিতে আমন ধানের আধুনিক চারা রোপণ পদ্ধতির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande