নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে ভূমিধসের ক্ষত এখনও কাটেনি, কড়া নজরদারিতে রেলপথ
হাফলং (অসম) ৪ আগষ্ট (হি স) লামডিং-বদরপুর হিল সেকশনের নিউ হারাঙ্গাজাও রেলস্টেশন সংলগ্ন ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। কবে নাগাদ রেলপথ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এনিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা। বর্তমান যে পরিস্থিতি
রেল লাইনে নজরদারি


হাফলং (অসম) ৪ আগষ্ট (হি স) লামডিং-বদরপুর হিল সেকশনের নিউ হারাঙ্গাজাও রেলস্টেশন সংলগ্ন ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। কবে নাগাদ রেলপথ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এনিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা। বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে করে চলতি মাসের শেষে লামডিং-বদরপুর হিল সেকশনে রেল চলাচল সম্পূর্ণ ভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ। প্রবল বর্ষণের জেরে রেলপথের নিচের মাটি বসে যাওয়ায় (ট্র্যাক সাবসিডেন্স) স্টেশনের ১১৮/১–৩ কিলোমিটার অংশে লাইন নম্বর–১ ও ২ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ওই দুই লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেলপথ মেরামতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর)।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও মাটির স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। কোথাও কোথাও নতুন করে ভূমি বসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় রেল বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার ও ভূ-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি দল সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। নিয়মিত ট্র্যাক পরিদর্শনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে মাটির অবস্থাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্টেশনের লাইন নম্বর–৩ দিয়েই সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচল করানো হচ্ছে। তবে প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত গতিসীমার অনেক নিচে চালানো হচ্ছে এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধি মেনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অতিক্রম করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মাটি ভরাট, ঢাল শক্তিশালীকরণ, রিটেইনিং স্ট্রাকচার নির্মাণ এবং ট্র্যাক নতুন করে বসানোর কাজ জোরকদমে চলছে।

কিন্তু টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি এলাকার প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থার কারণে রেলপথ মেরামতির কাজে বারবার বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবুও দ্রুত রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত কর্মী ও ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই লাইন নম্বর–১ ও ২ পুনরায় চালু করা হবে। ততদিন পর্যন্ত যাত্রীদের ট্রেন চলাচল সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথ উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ। এই রুটের মাধ্যমে বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের রেল যোগাযোগ বজায় থাকে। ফলে নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে রেলপথ মেরামতির কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার দিকে নজর রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষেরও।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande