
হরিদ্বার, ৪ আগস্ট (হি. স.) : পতঞ্জলি যোগপীঠে মঙ্গলবার আচার্য বালকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে ঐতিহ্য মেনে ‘জড়ি-বুটি দিবস’ পালিত হয়। এই উপলক্ষে আয়োজিত যজ্ঞ ও বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগগুরু স্বামী রামদেব, আচার্য বালকৃষ্ণ-সহ বহু ভক্ত ও যোগসাধক অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আয়ুর্বেদ, প্রাকৃতিক চিকিৎসা এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বামী রামদেব বলেন, আয়ুর্বেদ শুধু চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন। ভারতীয় ঋষিদের এই অমূল্য ঐতিহ্য আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং এই ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।
কাঁওয়ার যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিবভক্তদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে যাত্রা সম্পূর্ণ করা উচিত। প্রত্যেক হিন্দুর মধ্যে শিবত্ব, রামত্ব, কৃষ্ণত্ব ও দেবত্বের চেতনা জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। তিনি গঙ্গাস্নান ও গঙ্গাজল শিবলিঙ্গে অর্পণের সময় ভক্তদের মর্যাদা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কাঁওয়ার যাত্রীদের সব ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করারও আবেদন জানান।
ভগবান শিবকে নিয়ে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণারও বিরোধিতা করেন স্বামী রামদেব। তিনি বলেন, ভগবান শিব কোনও ধরনের নেশা করতেন না। শিবলিঙ্গে ভাঙ, ধুতুরা বা অন্য উপকরণ নিবেদনের ঐতিহ্য থাকলেও তা থেকে শিবের নেশাগ্রস্ত হওয়ার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর কথায়, বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা, সুলফা বা অন্য কোনও নেশাই শিবভক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। প্রকৃত শিবভক্তির অর্থ সংযম, শৃঙ্খলা, সেবা ও সদাচার।
সংসদ চত্বরে সাংসদ পাপ্পু যাদবের গেরুয়া পোশাক পরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। স্বামী রামদেব বলেন, কোনও ধর্ম, সম্প্রদায় বা ধর্মীয় প্রতীককে রাজনৈতিক প্রদর্শন বা বিতর্কের হাতিয়ার করা উচিত নয়। গেরুয়া সনাতন সংস্কৃতি, ত্যাগ ও তপস্যার প্রতীক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে তার অবমাননা করা ধর্মীয় অনুভূতি এবং সামাজিক-গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ—উভয়েরই পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির মত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। রাজনৈতিক বিষয় রাজনৈতিকভাবেই উত্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমাজের কোনও সম্প্রদায়, সাধু-সন্ত, ব্রাহ্মণ, পুরোহিত বা ধর্মীয় পরম্পরার অবমাননাও গ্রহণযোগ্য নয়। সকল পক্ষকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংযত আচরণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মেনে চলার আহ্বান জানান স্বামী রামদেব।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য