
হাফলং (অসম), ৫ আগস্ট: (হি স) ডিমা হাসাও জেলায় আগামী ১০ আগস্ট পালিত হতে যাওয়া জাতীয় কৃমিনাশক দিবস (এনডিডি)-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার হাফলংয়ে জেলা স্বাস্থ্য সমিতি, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (এনএইচএম)-এর উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় ও ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিচালকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন যৌথ স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিচালক ডা. সারসিং রংপি। সভায় জেলা টিকাকরণ আধিকারিক ডা. মেরিনা এল. চাংসান অন্ত্রের কৃমি সংক্রমণের কারণ, এর স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর প্রভাব এবং জাতীয় কৃমিনাশক দিবস কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি জানান, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দূষিত খাবার ও পানীয় জল, হাত না ধোয়ার অভ্যাস এবং খালি পায়ে চলাফেরার ফলে শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলে অপুষ্টি, রক্তাল্পতা, শারীরিক বিকাশে বাধা এবং শিক্ষার মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, নিয়মিত কৃমিনাশক ট্যাবলেট সেবন, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং জুতো পরার অভ্যাস গড়ে তোলাই কৃমি সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিভাগের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। সভায় সমাজকল্যাণ ও শিক্ষা বিভাগকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নথিভুক্ত ৩ থেকে ৬ বছর বয়সি শিশু এবং সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের হালনাগাদ তথ্য দ্রুত স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যাতে কোনও উপযুক্ত শিশু এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে।
স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১০ আগস্ট জেলার সমস্ত স্বাস্থ্য ব্লকে একযোগে জাতীয় কৃমিনাশক দিবস পালন করা হবে। ওইদিন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয় এবং অন্যান্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যোগ্য শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট প্রদান করা হবে। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করে কর্মসূচিকে শতভাগ সফল করার পাশাপাশি জেলার প্রতিটি যোগ্য শিশু-কিশোরের কাছে কৃমিনাশক সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব