
ঝাড়গ্রাম, ৫ আগস্ট (হি. স.): জঙ্গলমহলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বেলপাহাড়ি ও বাঁশপাহাড়ির সঙ্গে এবার সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হল কলকাতা। বুধবার থেকে ধর্মতলা ও বাঁশপাহাড়ির মধ্যে সরকারি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগে একদিকে যেমন পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে, তেমনই উপকৃত হবেন এলাকার সাধারণ মানুষও।
বুধবার জামবনি ব্লকের গিধনী বাজারে নতুন বাস পরিষেবার উদ্বোধন করেন বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামিম বিশ্বাস, জামবনি ব্লকের বিডিও দেবব্রত জানা, জামবনি থানার আইসি-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক।
পরিবহণ দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় কলকাতার ধর্মতলা থেকে বাসটি ছাড়বে। ঝাড়গ্রাম, চিল্কিগড়, গিধনী বাজার ও বেলপাহাড়ি হয়ে বাসটি বাঁশপাহাড়িতে পৌঁছবে। ফিরতি পথে বিকেল ৪টায় বাঁশপাহাড়ি থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে বাস ছাড়বে।
এতদিন কলকাতা থেকে বেলপাহাড়ি বা বাঁশপাহাড়ি যেতে হলে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত ট্রেন বা বাসে এসে সেখান থেকে আলাদা গাড়ি বা বাসে গন্তব্যে পৌঁছতে হত। সরাসরি বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
শুধু বেলপাহাড়িই নয়, এই বাসপথে চিল্কিগড়ের কনকদুর্গা মন্দির, ডুলুং নদী এবং ঐতিহাসিক রাজবাড়ির মতো দর্শনীয় স্থানেও সহজে পৌঁছতে পারবেন পর্যটকেরা। ফলে একদিনের সফরেই জঙ্গলমহলের একাধিক পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
বেলপাহাড়ি ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, সরাসরি এসি বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগে ঝাড়গ্রামে নেমে আলাদা যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হত। এখন কলকাতা থেকে সরাসরি এসে একই দিনে ঘুরে ফেরার সুযোগ থাকায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলেই তাঁদের আশা।
বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। এই বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় কলকাতার সঙ্গে জঙ্গলমহলের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং পর্যটকদের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারাও এর সুবিধা পাবেন।
পর্যটন মহলের মতে, কলকাতা-বাঁশপাহাড়ি সরাসরি এসি বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় বেলপাহাড়ি, বাঁশপাহাড়ি ও চিল্কিগড়ের পর্যটনে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে হোটেল, হোমস্টে, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহণ এবং পর্যটননির্ভর অন্যান্য ব্যবসারও উল্লেখযোগ্য প্রসারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো