
শ্রীভূমি (অসম), ৫ আগষ্ট (হি.স.) : রাজ্য সরকারের 'কর্মশ্রী পুরস্কার-২০২৬'-এ সম্মানিত হলেন শ্রীভূমির জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী। ২০২৬ সালের আসাম স্টেট স্কুল এডুকেশন বোর্ড পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় জেলার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতির স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা আয়ুক্ত এবং তাঁর টিমকে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার গুয়াহাটির পাঞ্জাবাড়িস্থিত দামোদর দেব ইন্টারন্যাশনাল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রণোজ পেগু-র হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী। তাঁর সঙ্গে পুরস্কার গ্রহণ করেন সহকারী আয়ুক্ত রসিকা ইসলাম, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক নিলামজ্যোতি দাস এবং ডায়েটের অধ্যক্ষ মাহুল চৌধুরী। পুরস্কার হিসেবে একটি ট্রফি এবং দলের প্রত্যেক সদস্যকে প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় শ্রীভূমির পাশের হার আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৭.৮ শতাংশ থেকে ৬৬.২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সাফল্যের ফলে শ্রীভূমি রাজ্যের ৩৩তম স্থান থেকে উঠে ১৬তম স্থানে পৌঁছানোর পাশাপাশি বরাক উপত্যকার তিন জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে।
এই সাফল্যের নেপথ্যে জেলা প্রশাসনের একাধিক পরিকল্পিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য জেলার ১২ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর দক্ষতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সুযোগ করে দেওয়া হয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হয়।
এছাড়া সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে অভিভাবক-শিক্ষক সভা আয়োজন করা হয়। ওই সভাগুলিতে দক্ষতা মূল্যায়নের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডায়েটের মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিকারমূলক পাঠ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে পরীক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থাও করা হয়।
জেলা প্রশাসনের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে শুধু ফলাফলের উন্নতিই হয়নি, বরং জেলায় ১০ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে। প্রশাসনের এই শিক্ষা-কেন্দ্রিক উদ্যোগ এবং তার ইতিবাচক ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী ও তাঁর টিমকে কর্মশ্রী পুরস্কার প্রদান করেছে রাজ্য সরকার।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস