
কলকাতা, ৫ আগস্ট (হি.স.): বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মার্শাল দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তবে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তের নিয়মাবলি ও নেপথ্য কারণ নিয়ে বিধানসভার অন্দরে জোর বিতর্ক ও কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিধানসভা সূত্রের খবর, স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন এবং আগামী ৮ আগস্ট তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে। কিন্তু তিনি শহরে পৌঁছানোর আগেই বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্ৰ নাথ দাস এই বরখাস্তের নির্দেশ জারি করেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরণের প্রশাসনিক পদক্ষেপে স্পিকারের অনুমোদন আবশ্যক বলে দাবি করেছেন বিধানসভার একাধিক কর্মী।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেছেন কর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, মুখ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সিএসও) মৈশুদ্দিন মণ্ডল ওরফে বাপ্পার বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় সই করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকী, বিগত বিধানসভা নির্বাচনের সময় ছুটি না নিয়েই তৎকালীন স্পিকার তথা তৃণমূল প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে প্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীও বিধানসভায় সিএসও-র বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। তা সত্ত্বেও মুখ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করে মার্শালকে তড়িঘড়ি বরখাস্ত করায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা।
তবে মার্শাল বরখাস্ত ও কর্মী-অসন্তোষের এই আবহে বিধানসভা সচিবালয় বা স্পিকারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি