
হাফলং (অসম), ৫ আগস্ট (হি স) : পাহাড়ে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত। আর এই বৃষ্টিপাতের জেরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (এনএফআর) লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথের নিউ হারাঙ্গাজাও এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামতির কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টানা বর্ষণের ফলে পাহাড় থেকে বারবার ধস ও পাথর গড়িয়ে পড়ায় দরুণ নিরবচ্ছিন্নভাবে রেলপথ মেরামতির কাজ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১১৮/১–৩ কিলোমিটার অংশে প্রবল বর্ষণে লাইনের নিচের মাটি ধুয়ে যাওয়ায় পুনরায় রেলপথ মেরামতির কাজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যার দরুন নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের অবস্থা আরো জটিল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রেল বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার, ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্মাণ বিভাগের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে গেলেও লাগাতার বৃষ্টি মেরামতির কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে বড় বড় পাথর ফেলা, মাটি ভরাট, ঢাল স্থিতিশীল করা এবং রেললাইন পুনরায় সমতল করার কাজ চলছে।
কিন্তু প্রতিটি দফা বৃষ্টির পর নতুন করে ভূমিধস নামায় ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে রেলপথ মেরামতির কাজের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর এবং কঠিন হয়ে পড়েছে। লামডিং–বদরপুর রেলপথই বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুরকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করা একমাত্র ব্রডগেজ রেল সংযোগ। এই রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি, মেরামতকাজ সম্পূর্ণ হওয়া এবং পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করা হবে না বলেও উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এদিকে, প্রতিবার বর্ষাতেই ভূমিধস, রেললাইন ধসে যাওয়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পুনরাবৃত্ত ঘটনায় বিকল্প রেলপথ নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী মহল এবং রেল কর্মচারী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রনাথপুর হয়ে লঙ্কা–শিলচর নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, এই বিকল্প রেলপথ নির্মিত হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
এখন সকলের নজর আবহাওয়ার দিকে। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, বৃষ্টির প্রকোপ কমলেই পূর্ণোদ্যমে রেলপথ মেরামতির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব লামডিং–বদরপুর রেলপথে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা যাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব