
ঝাড়গ্রাম, ৬ আগস্ট (হি. স.): জনগণনা ২০২৬-এ কুড়মি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও ভাষাগত পরিচয় পৃথকভাবে নথিভুক্ত করার দাবিতে কেন্দ্রের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল জনজাতি কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার দিল্লির মানসিং রোডে অবস্থিত জনগণনা ভবনে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (আরজিআই) ও সেন্সাস কমিশনারের উদ্দেশে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
জনজাতি কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি এই দাবি পেশ করে। এদিন তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামশেদপুরের সাংসদ বিদ্যুৎ বরণ মাহাতো, গিরিডির সাংসদ চন্দ্র প্রকাশ চৌধুরী এবং পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।
স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়েছে, আসন্ন জনগণনা ফর্মে ধর্মের ক্ষেত্রে ‘কুড়মি’ অথবা ‘সারনা-কুড়মি ধারাম’ এবং মাতৃভাষার ক্ষেত্রে ‘কুড়মালি’-কে পৃথক বিকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। পাশাপাশি, এই পরিচয়গুলির জন্য আলাদা জনগণনা কোড নির্ধারণেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধিদলের বক্তব্য, বর্তমানে জনগণনায় কুড়মি ধর্ম ও কুড়মালি ভাষার জন্য পৃথক কোনও কোড বা শ্রেণিবিন্যাস না থাকায় সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও ভাষাগত পরিচয় সরকারি তথ্যভান্ডারে আলাদাভাবে প্রতিফলিত হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মের ঘরে ‘হিন্দু’ বা ‘অন্যান্য’ এবং ভাষার ঘরে অন্য কোনও ভাষার উল্লেখ করতে হয়, যা প্রকৃত পরিচয়কে আড়াল করে দেয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার, অসম ও ছত্তিশগড়ে বসবাসকারী কুড়মি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে। সেই স্বতন্ত্র পরিচয়কে সরকারি জনগণনার নথিতে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবির পক্ষে ভারতীয় সংবিধানের ২৯(১), ৩০(১), ৫১(ক)(ফ), ৩৫০এ ও ৩৫০বি অনুচ্ছেদের পাশাপাশি জনগণনা আইন, ১৯৪৮-এর উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিনিধিদলের দাবি, পৃথক বিকল্প ও জনগণনা কোড চালু হলে কুড়মি সমাজের ধর্মীয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সরকারি পরিসংখ্যান এবং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে যথাযথ গুরুত্ব পাবে।
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন রেজিস্ট্রার জেনারেলের দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো