



গুয়াহাটি, ৬ আগস্ট (হি.স.) : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর স্বয়ংসেবক এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কার্যকর্তারা উজান অসমের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, চড়াইদেও এবং যোরহাট জেলার হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, নিরাপদ আশ্রয় এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার তীব্র সংকটের মধ্যেও স্বয়ংসেবকেরা নিরলসভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সেবা প্রদান করে চলেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংঘ-এর উত্তর অসম প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ কিশোর শিবম এ তথ্য দিয়ে জানান,
গত ২০ জুলাই থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রায় ১,৯১২ জন স্বয়ংসেবক উদ্ধার, ত্রাণ, গৃহনির্মাণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। বন্যাকবলিত শিবসাগর, চরাইদেউ এবং যোরহাট জেলার প্রায় ৩৭৮টি গ্রামের ৪০,১৬৮টি পরিবারের কাছে তাঁরা ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে চলেছেন।
কিশোর শিবম বলেন, বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ত্রাণ, উদ্ধার ও শ্রমদান কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। শিবসাগর, চড়াইদেও, যোরহাট, গোলাঘাট, ডিব্রুগড়, লখিমপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের স্বয়ংসেবকেরা যে যেভাবে পারছেন, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বিশেষ করে শিবসাগর জেলার বেতবাড়ি অঞ্চলের কাকতি গাঁও, ডি-গাঁও, ২ নম্বর কঁওয়ার গাঁও, নেপালিখুটি, বিহুবর এবং চেতিয়া কৈবর্ত গাঁও সহ বিভিন্ন এলাকায় স্বয়ংসেবকেরা ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ২০০-র বেশি মানুষকে বন্যার কবল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ও ত্রাণশিবিরে স্থানান্তরিত করেছেন।
সুন্দরপুখুরি, বামুণপুখুরি, গেলেকি এবং রাজাবাড়ি সহ জলমগ্ন এলাকায় ছোট নৌকার সাহায্যে আটকে পড়া পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, জীবনদায়ী ওষুধ, বস্ত্র এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যক সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে যোরহাট জেলার এলেংমরা, কাতিরামচুক, কুলাইচুক, নালিয়াচুক, শেনচোয়াচুক এবং চারিঘরিয়াচুক সহ বিভিন্ন এলাকায়ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বন্যাদুর্গত পরিবারগুলির মধ্যে যে সমস্ত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে চাল, চিনি, ডাল, শিশুখাদ্য, লবণ, আলু, পরিধেয় ও বিছানার কাপড়, বাসনপত্র, ত্রিপল, মোমবাতি, মশা তাড়ানোর কয়েল, বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানীয় জল, সাবান, ফিটকিরি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী।
এদিকে, ন্যাশনাল মেডিকোজ অর্গানাইজেশন (এনএমও)-এর সহযোগিতায় স্বয়ংসেবকরা ইতিমধ্যে ৫০টির বেশি চিকিৎসা শিবির আয়োজন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছেন বলে জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কিশোর শিবম আরও বলেন, আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় অধিকাংশ পরিবার কোনও প্রয়োজনীয় সামগ্রী উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীরই অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বয়ংসেবকেরা দুর্গত মানুষের হাতে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
প্রথম পর্যায়ে ছোট নৌকার সাহায্যে জলবন্দি বাড়িগুলিতে খাদ্য ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ, মহিলা, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে স্বয়ংসেবকেরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের কাজেও সহায়তা করছেন এবং বিভিন্নভাবে পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।
কিশোর শিবম বলেন, উত্তর অসম প্রান্তের বিভিন্ন জেলার স্বয়ংসেবকেরা বন্যাপীড়িত এলাকায় উপস্থিত থেকে দিনরাত সেবাকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য খাদ্যেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে কৃষকরা যাতে দ্রুত কৃষিকাজ পুনরায় শুরু করতে পারেন, সেজন্য বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা প্রস্তুত ও রোপণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছেন স্বয়ংসেবকেরা।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের এই মানবিক সেবাযজ্ঞ সংঘের সেই চিরন্তন আদর্শকেই প্রতিফলিত করে, যার জন্য আরএসএস-কে 'নিঃস্বার্থ সেবার জন্য সর্বদা প্রস্তুত' বলা হয়।
'নরসেবাই নারায়ণ সেবা', এই মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বয়ংসেবক এবং সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের কার্যকর্তারা প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুর্গত মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের আশা, সাহস ও সহায়তার অবলম্বন হয়ে উঠেছেন, বলা হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ