
বাঁকুড়া, ৬ আগস্ট (হি. স.): জনগণনার কাজে নিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘অন ডিউটি’ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে বড়জোড়ার বিডিওর কাছে স্মারকলিপি জমা দিল নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (এবিপিটিএ)-র বড়জোড়া জোন।
জনগণনা ২০২৭-এর প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যেই অনলাইনে ‘সেল্ফ ই-সেন্সাস’ শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার কাজ করবেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এই মর্মে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা ভবন থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের কাজ শেষ করে শিক্ষকদের জনগণনার কাজ করতে হবে। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার এবিপিটিএ-র বড়জোড়া জোনের পক্ষ থেকে বিডিওর কাছে ডেপুটেশন দিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
শিক্ষক নেতা ফাল্গুনী মণ্ডল বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের জনগণনার কাজে যুক্ত করা নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। স্বাধীনতার পর থেকেই শিক্ষকরা এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এমনকি অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রায় সব শিক্ষককেই এই কাজে যুক্ত করা হয়েছে, তাতেও তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ছুটির পরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার কাজ করতে হলেও সেই কাজকে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করা হবে না—এতেই তাঁদের আপত্তি।
শিক্ষক নেতা সুজয় চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত না করে জনগণনার কাজ করার নির্দেশ অন্যায্য। তাই তাঁদের দাবি, জনগণনার কাজকে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি, যেসব বিদ্যালয়ে সমস্ত শিক্ষককেই জনগণনার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে, সেখানে অন্তত একজন শিক্ষককে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক, যাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান ব্যাহত না হয়।
এ বিষয়ে বড়জোড়ার বিডিও সুদীপ বসু বলেন, তিনি শিক্ষা দফতরের আধিকারিক নন। তবে শিক্ষকদের দুটি দাবিই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সুষ্ঠুভাবে জনগণনার কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।
এদিনের ডেপুটেশনে শিক্ষক নেতা প্রদীপ দত্ত, রবিউল শেখ, সন্তু সেন, পূর্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবসাধন মাজি, অশোক পান-সহ অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট