মহাকালের ভস্ম আরতিতে সামিল গায়ক বি প্রাক, সন্ধ্যায় ‘শিবতত্ত্ব-শ্রাবণ কলা উৎসব’-এ পরিবেশনা
উজ্জ্বয়িনী, ৯ আগস্ট (হি.স.): শ্রাবণ মাসের পবিত্র আবহে রবিবার সকালে উজ্জ্বয়িনীতে পৌঁছে বাবা মহাকালের ভস্ম আরতিতে সামিল হলেন জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়ক বি প্রাক। মহাকালেশ্বর মন্দিরে পুজো ও দর্শনের পর মন্দির এবং জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন ত
মহাকালের ভস্ম আরতিতে সামিল গায়ক বি প্রাক, সন্ধ্যায় ‘শিবতত্ত্ব-শ্রাবণ কলা উৎসব’-এ পরিবেশনা


উজ্জ্বয়িনী, ৯ আগস্ট (হি.স.): শ্রাবণ মাসের পবিত্র আবহে রবিবার সকালে উজ্জ্বয়িনীতে পৌঁছে বাবা মহাকালের ভস্ম আরতিতে সামিল হলেন জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়ক বি প্রাক। মহাকালেশ্বর মন্দিরে পুজো ও দর্শনের পর মন্দির এবং জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, তাঁর জনপ্রিয় শিবভজন ‘মহাকাল’-এর সাফল্যের পর এবার খুব শিগগিরই দর্শকদের সামনে আসতে চলেছে ‘মহাকাল-২’।

বিশ্বখ্যাত জ্যোতির্লিঙ্গ শ্রী মহাকালেশ্বর মন্দিরের নন্দী হলে বসে বাবা মহাকালের দিব্য রূপ দর্শন করেন বি প্রাক এবং আশীর্বাদ নেন। ভস্ম আরতি শেষ হওয়ার পর শ্রী মহাকালেশ্বর মন্দির পরিচালন কমিটির পক্ষ থেকে উপ-প্রশাসক এস.এন. সোনি তাঁকে স্বাগত ও সম্মান জানান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বি প্রাক বলেন, শ্রাবণ মাসে বাবা মহাকালের দরবারে উপস্থিত হতে পারা তাঁর কাছে অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। নিজের জনপ্রিয় শিবভজন ‘মহাকাল’—‘মহাকাল মহাকাল হ্যায় প্যারে’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, বাবা মহাকালের আশীর্বাদেই গানটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভিউ পেয়েছে এবং শ্রোতাদের কাছ থেকে বিপুল ভালোবাসা পেয়েছে। শিবকে নিয়ে তাঁর আরও একটি নতুন ভজন শীঘ্রই প্রকাশিত হতে চলেছে। পাশাপাশি ‘মহাকাল-২’-এর প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বি প্রাক আরও জানান, ইন্দোরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার পর এই প্রথমবার বাবা মহাকালের শহর উজ্জ্বয়িনীতে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এই সুযোগের জন্য মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদব, রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গায়ক।

শ্রাবণ মাস উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে শ্রী মহাকালেশ্বর মন্দির চত্বরে শক্তিপথে, ত্রিবেণী সংগ্রহশালার সামনে, আয়োজন করা হয়েছে ‘শিবতত্ত্ব-শ্রাবণ কলা উৎসব’। মধ্যপ্রদেশ সরকারের সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই সঙ্গীতসন্ধ্যায় বি প্রাক ও তাঁর মুম্বইয়ের দল শিবভজন পরিবেশন করবে। অনুষ্ঠানে নিবাড়ির শিল্পী পবন তিওয়ারি ও তাঁর দলও সাংস্কৃতিক এবং ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন।

এদিকে রবিবার ভোরের ভস্ম আরতির সময় বাবা মহাকালের বিশেষ শৃঙ্গার করা হয়। ভোর ৪টেয় মন্দিরের দরজা খোলার পর গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত সমস্ত দেবদেবীর মূর্তির পুজো হয়। এরপর বাবা মহাকালের জলাভিষেক করা হয়। দুধ, দই, ঘি, চিনি ও ফলের রস দিয়ে তৈরি পঞ্চামৃত দিয়ে সম্পন্ন হয় অভিষেক। পুজোর সময় ত্রিশূল, ত্রিপুণ্ড ও ডমরু দিয়ে বাবা মহাকালকে সাজানোর পাশাপাশি ভাংও নিবেদন করা হয়। হরি ওমের জল অর্পণের পর হয় কর্পূর আরতি। এরপর জ্যোতির্লিঙ্গকে বস্ত্র দিয়ে ঢেকে নিয়ম মেনে ভস্ম অর্পণ করা হয়।

ভস্ম অর্পণের পর বাবা মহাকালের আকর্ষণীয় শৃঙ্গার করা হয়। শেশনাগের রুপোর মুকুট, রুপোর মুন্ডমালা এবং রুদ্রাক্ষের মালা পরানো হয় তাঁকে। পাশাপাশি মোগরা ও গোলাপের সুগন্ধি ফুলের মালাও অর্পণ করা হয়। বাবা মহাকালকে ফল ও মিষ্টির ভোগ নিবেদন করা হয়। ভস্ম আরতিতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। দর্শন করে বাবা মহাকালের আশীর্বাদ নেন তাঁরা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande