
কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বর (হি. স.): পশ্চিমবঙ্গে ক্রমাগত বৃষ্টির মধ্যে বাড়ছে ডেঙ্গির আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ডেঙ্গির বিচারে পাঁচটি জেলাকে সবচেয়ে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই জেলাগুলির তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ। উক্ত জেলাগুলিতে নজরদারি ও মশা নিধন অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক মাস এবং চলমান বর্ষা মৌসুমে সামনে আসা ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই এই জেলাগুলিকে নির্বাচন করা হয়েছে। রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী রাজ্যে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির ফলে মশাদের বংশবৃদ্ধির নতুন নতুন স্থান তৈরির আশঙ্কা এখনও রয়ে গিয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৪,০৩৫টি ডেঙ্গি আক্রান্তের ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সাতটি মৃত্যুকে ডেঙ্গির কারণে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে যেসব রোগীর ডেঙ্গি পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ ছিল কিন্তু পাশাপাশি তাঁরা অন্য গুরুতর অসুস্থতাতেও ভুগছিলেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত কলকাতায় ৩২৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের খবর নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩৮৭। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যানে জানা যায়, শহরে রেকর্ড হওয়া ১০টি মৃত্যুর মধ্যে সাতটিকে রাজ্যের 'ডেথ রিভিউ কমিটি' ডেঙ্গির কারণ মৃত্যু হিসেবে গণ্য করেছে।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বর্ষার মরশুম মশাবাহিত রোগ বিস্তারের জন্য উপযোগী। সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সবাইকে বাড়ির ছাদ, গ্যারেজ, বাগান ও অন্যান্য স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার এবং টব, কৌটো ও পুরানো পাত্রে জমা জল ফেলে দেওয়ার আবেদন জানান।
তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকারি ভবন ও কলকাতা পুরসভার প্রাঙ্গণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেচ দফতর ও পূর্ত দফতরের সহায়তায় খাল-নালাগুলিও পরিষ্কার করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, কলকাতা পুরসভা ও মেট্রো রেল যৌথভাবে ডেঙ্গি বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এসপ্ল্যানেড থেকে এই অভিযানের সূচনা হয়েছে এবং এটি আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। অন্যান্য সরকারি দফতরের সহযোগিতায় এই অভিযান আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গি প্রতিরোধ কেবল সরকারি প্রাঙ্গণে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। জনবহুল এলাকায় বসবাসকারী মানুষকেও চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জল জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।
ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং পুরসভাগুলির সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। বর্ষার অবশিষ্ট সময়ে পুরসভাগুলিকে পরিচ্ছন্নতা, নজরদারি এবং মশা নিধন অভিযান আরও দ্রুত ও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি