৫ সেপ্টেম্বরেই খুলবে ২ নম্বর লাইন, নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে জোরকদমে কাজ
হাফলং (অসম), ১ সেপ্টেম্বর (হি. স.): বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার পথে লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথ। নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনে ক্ষতিগ্রস্ত ২ নম্বর রেললাইন আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত
Harangjao Station


হাফলং (অসম), ১ সেপ্টেম্বর (হি. স.):

বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার পথে লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথ। নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনে ক্ষতিগ্রস্ত ২ নম্বর রেললাইন আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ১ নম্বর লাইনও পুনরায় চালু করার লক্ষ্য স্থির হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একটি মাত্র লাইন দিয়ে চলা ট্রেন পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রেল সূত্রে খবর, কাজ দ্রুত শেষ করতে নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে মেরামতি। প্রায় ৫০০ কর্মী দিন-রাত কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে নামানো হয়েছে ২২টি পিসি এক্সক্যাভেটর, ১২টি জেসিবি এবং ১৮টি ট্রাক্টর। পাশাপাশি রয়েছে নিউম্যাটিক ড্রিল, হাইড্রলিক পাইলিং রিগ-সহ একাধিক ভারী ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মাটি ও রেলপথের ভিত্তি শক্ত করা, জল নিষ্কাশন এবং গোটা পরিকাঠামোকে ফের স্থিতিশীল করার কাজ চলছে।

গত ২০ জুলাই থেকে নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে রেলপথের ভিত্তি বসে যাওয়া এবং পাশের দিকে সরে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতির জেরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে বর্তমানে শুধুমাত্র ৩ নম্বর লাইন দিয়েই ট্রেন চালানো হচ্ছে।

রেলের দাবি, সমস্যার পিছনে রয়েছে এলাকার প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের গতিপথ এবং স্থানীয় নিকাশি ব্যবস্থার পরিবর্তন। পাহাড়ের উপরিভাগ থেকে বিপুল পরিমাণ জল একটি নির্দিষ্ট অংশে এসে জমা হওয়ায় মাটির নীচে গভীর জলসঞ্চয় তৈরি হয়। তার ফলেই রেলপথের ভিত্তির স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে শুরু করে।

সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জল নিষ্কাশন, ডিওয়াটারিং এবং মাটির ভিত্তি মজবুত করার কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রেলের বক্তব্য, ২ নম্বর লাইন চালু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই অংশ দিয়ে আরও বেশি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরতে অপেক্ষা করতে হবে ১ নম্বর লাইনের জন্য। সেটি সেপ্টেম্বরের শেষে চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এই পাহাড়ি রেলপথে বার বার পরিকাঠামোগত সমস্যার জেরে যাত্রী দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তাই এ বার পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের সমস্যা না ফেরে, সে দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে রেল সূত্রের খবর। যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কাজ এগোনো হচ্ছে, জানিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের সিপিআরও কে কে শৰ্মা।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande