
কাঠমান্ডু, ১০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : গ্যাস ব্যবসায়ীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পদত্যাগ করলেন নেপালের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহমন্ত্রী গৌরী যাদব। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গ্যাস ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতের পরই তাঁর উপর চাপ বাড়ছিল বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার শিল্প কমিটির বৈঠকে গ্যাস ব্যবসায়ীদের নিয়ে মন্তব্য করেন গৌরী যাদব। তাঁর বক্তব্যের তীব্র আপত্তি জানায় গ্যাস ব্যবসায়ী মহল। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, দেশে চলতি গ্যাস সংকটের জন্য গ্যাস ব্যবসায়ীরাই দায়ী। গ্যাস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এমনকি নেপালে থাকা ৫৮টি গ্যাস শিল্পের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন যাদব। তাঁর দাবি ছিল, দেশে এতগুলি গ্যাস শিল্পের প্রয়োজন নেই। মাত্র দু’টি গ্যাস শিল্প দিয়েই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
এদিকে, বর্তমানে নেপালের কাঠমান্ডু উপত্যকায় রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একটি গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ২,০৬০ নেপালি রুপির নির্ধারিত মূল্যের সিলিন্ডারের জন্য কোথাও কোথাও প্রায় ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বহু গ্রাহক।
দীর্ঘদিনের এই গ্যাস সংকটের পরিস্থিতি সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আরও জটিল হয়েছে। ভাদাউ থেকে কৃষ্ণভীরে রাস্তা ধসে যাওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প পথে গ্যাস পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলেও গ্রাহকদের কাছে স্বাভাবিক সরবরাহ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নেপালে গ্যাস আমদানি, মজুত ও সরবরাহের জন্য সরকারের নিজস্ব পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। দেশে থাকা ৫৮টি গ্যাস শিল্পই বেসরকারি মালিকানাধীন। সরকারি সংস্থা নেপাল অয়েল কর্পোরেশনের মালিকানায় কোনও গ্যাস বটলিং প্ল্যান্ট নেই। সরকারের ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকা সল্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করলেও দেশের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা তাদের নেই।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে নেপাল অয়েল কর্পোরেশন এবং শিল্প মন্ত্রকের তরফে নিয়মিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে বাজারের পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না বলে অভিযোগ। পাশাপাশি গ্যাস পরিবহণের জন্য নেপালের নিজস্ব কোনও গ্যাস বুলেট ট্যাঙ্কারও নেই। ভারত থেকে গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে বেসরকারি গ্যাস শিল্পগুলিকে ভারতীয় বুলেট ট্যাঙ্কারের উপর নির্ভর করতে হয়।
এর ফলে শুধুমাত্র গ্যাস পরিবহণের খরচ বাবদ প্রতি বছর প্রায় ৬০০ কোটি নেপালি টাকা দেশের বাইরে চলে যায় বলে দাবি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে গ্যাস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে শিল্পমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন গৌরী যাদব।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস