শিউলির গন্ধে পাহাড়ে পুজোর হাওয়া, হাফলংয়ে ২২ বছরের ঐতিহ্যে মা শক্তি দুর্গা পুজো কমিটির প্রস্তুতি তুঙ্গে, চার দিনই দর্শনার্থীদের জন্য অন্ন ও মহাপ্রসাদের আয়োজন
হাফলং (অসম), ১১ সেপ্টেম্বর (হি. স.): শরতের আকাশে মেঘের আনাগোনা। বাতাসে শিউলির মিষ্টি গন্ধ। পুজোর ঢাকে এখনও কাঠি পড়েনি, কিন্তু তার আগেই পাহাড়ি শহর হাফলংয়ে যেন নেমে এসেছে উৎসবের আমেজ। অলিগলি থেকে পুজোমণ্ডপ—সর্বত্রই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। প্রতি
Durga Puja


হাফলং (অসম), ১১ সেপ্টেম্বর (হি. স.):

শরতের আকাশে মেঘের আনাগোনা। বাতাসে শিউলির মিষ্টি গন্ধ। পুজোর ঢাকে এখনও কাঠি পড়েনি, কিন্তু তার আগেই পাহাড়ি শহর হাফলংয়ে যেন নেমে এসেছে উৎসবের আমেজ। অলিগলি থেকে পুজোমণ্ডপ—সর্বত্রই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজ, প্যান্ডেল নির্মাণ থেকে শুরু করে চাঁদা সংগ্রহ—সব মিলিয়ে ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।

পুজোর এই আবহ থেকে পিছিয়ে নেই অসমের অন্যতম পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও। জেলায় কলকাতা শিলচর বা গুয়াহাটির মতো বিগ-বাজেটের পুজোর সংখ্যা না থাকলেও স্থানীয় পুজোগুলির নিজস্ব ঐতিহ্য ও আকর্ষণ রয়েছে। তারই অন্যতম হাফলং শহরের মা শক্তি দুর্গা পুজো কমিটি। টানা ২২ বছর ধরে মাঝারি বাজেটে পুজোর আয়োজন করে আসা এই কমিটি ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

এ বারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই নতুন কমিটি গঠন করে পুজোর প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। কমিটির কোষাধ্যক্ষ সমরেশ নাথ জানিয়েছেন, এ বারের পুজোর মোট বাজেট প্রায় ছয় লক্ষ টাকা। সীমিত বাজেটের মধ্যেই দর্শনার্থীদের জন্য পুজোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের দাবি, এ বার প্রতিমাতেই থাকবে বিশেষ চমক। সেই প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী প্রদেশ ভট্টাচার্য। অন্য দিকে, পুজোর মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছেন বিজয় দাস। প্রতিমা ও মণ্ডপ—দুই ক্ষেত্রেই নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ফলে পুজোর দিনগুলিতে হাফলং শহরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে বলেই আশা কমিটির।

এ বারের দুর্গাপুজোয় আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ থাকছে। সপ্তমী দু’দিন হওয়ায় উৎসবের দিনগুলিও কার্যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সেই কথা মাথায় রেখে চার দিনই পুজো দর্শনার্থীদের জন্য অন্ন ও মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হবে। পুজোমণ্ডপে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকেও নজর রাখছেন উদ্যোক্তারা।

পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিমা থেকে মণ্ডপ—সব কিছুতেই স্থানীয় শিল্পী ও কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও বাড়ছে। ফলে পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, হাফলংয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

শরতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের বাতাসে যখন শিউলির গন্ধ আরও স্পষ্ট হচ্ছে, তখন হাফলংয়েও পুজোর কাউন্টডাউন শুরু। ঢাকে কাঠি পড়ার অপেক্ষা শুধু সময়ের। তার আগেই অবশ্য মা শক্তি দুর্গা পুজো কমিটির মণ্ডপ ঘিরে তৈরি হচ্ছে কৌতূহল—ছয় লক্ষ টাকার বাজেটে প্রতিমার সেই ‘চমক’ ঠিক কী, উত্তর মিলবে পুজোর মণ্ডপেই।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande