
দেহরাদূন, ১২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : উত্তরাখণ্ডে সরকারি জমি নিষ্পত্তি এবং বিনিয়োগের নামে বেসরকারি সংস্থাকে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিস্তারিত তদন্তের দাবি করেছে কংগ্রেস। দলের রাজ্য সভাপতি মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।
কংগ্রেসের অভিযোগ, ধামি জমি কেনাবেচার মাধ্যমে রাজ্যকে গুরুতর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। সরকারি জমি নয়ছয় করে নামমাত্র দামে বিক্রি করা হচ্ছে। শনিবার রাজপুর রোডের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে রাজ্যে চলা জমি কেলেঙ্কারিতে সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ধরে কংগ্রেস। দল ‘অভিযোগপত্র-১’ প্রস্তুত করেছে। এই প্রথম অভিযোগপত্রে ধামি সরকারের বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে।
কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি করণ মাহরা বলেন, দলের চার সদস্যের কমিটি বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখেছে। আগামী দিনে আরও বেশ কয়েকটি ঘটনা তথ্য-প্রমাণ-সহ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
ইউআইআইডিবি-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহরা। তাঁর অভিযোগ, সরকারি জমি ব্যাপক হারে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় বোর্ডকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ১২.৫০ একরের বেশি সরকারি জমি কোনও সংস্থাকে দেওয়া বা তার জন্য দরপত্র ডাকার ক্ষেত্রে সাধারণত বিষয়টি মন্ত্রিসভার সামনে যাওয়ার কথা। কিন্তু ইউআইআইডিবিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত জমি নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ৯০ বছরের লিজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, পরে লিজধারীকে জমি ফ্রিহোল্ড করার সুযোগ দেওয়া হলে সরকারি সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি অধিকারের উপর প্রভাব পড়তে পারে।
জমির মূল্য পরিশোধের শর্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহরা। তাঁর দাবি, সফল দরদাতাকে প্রথমে ২৫ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ অর্থ পরবর্তী ১০ বছরে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মাহরা বলেন, এই ধরনের ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগকারীরা সরকারি জমি ব্যবহার করে ব্যবসায়িক লাভ করার সুযোগ পেতে পারেন।
জমি বরাদ্দের যোগ্যতার শর্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মাহরার মতে, প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা নিট সম্পদ, গত তিন বছরে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা, ২৫টির বেশি দেশে উপস্থিতি এবং হোটেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক হাজার কক্ষ পরিচালনার অভিজ্ঞতার মতো শর্ত রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এতে স্থানীয় ছোট উদ্যোগপতিদের পরিবর্তে বড় ও বাইরের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সুবিধা পেতে পারে।
সহসপুরে শিল্প জমি বরাদ্দের বিষয়টিও তোলেন মাহরা। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় উদ্যোগপতিদের দেওয়ার পরিবর্তে প্রায় ৩২৫ বিঘা জমি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। জমির বাজারমূল্য ও বরাদ্দের হারের মধ্যে পার্থক্যের দাবি করে তিনি সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি জমি স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত, যাতে বেশি রাজস্বের পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও সুযোগ পান।
হরিদ্বারের সিডকুল এলাকায় প্রায় ২৩,১৩৭ বর্গমিটার জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহরা। তিনি বলেন, কংগ্রেসের চার সদস্যের কমিটি নথিপত্র ও বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত করছে। সরকারি জমি সংক্রান্ত ঘটনাগুলির বিস্তারিত তথ্য আগামী দিনে প্রকাশ করা হবে। নিয়ম লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
বৈঠকে বিরোধী দলনেতা যশপাল আর্য, কংগ্রেসের সহ-প্রভারি সুরেন্দ্র শর্মা, প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ রাওয়াত, প্রেম বহুখণ্ডী, ড. প্রতিমা, রাজেন্দ্র, অমরজিৎ-সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য