হৃদরোগীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা, চিকিৎসার পর দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরায় জোর
নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর (হি.স.): চিকিৎসার পর হৃদরোগীদের আরও ভালোভাবে সুস্থ করে তুলতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও সফদরজং হাসপাতাল। রোগের পর ফের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে রোগীদের সাহায্য করাই এই নির্দেশিকার লক্ষ্য। এতে ব্যায়াম,
হৃদরোগীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা, চিকিৎসার পর দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরায় জোর


নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর (হি.স.): চিকিৎসার পর হৃদরোগীদের আরও ভালোভাবে সুস্থ করে তুলতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও সফদরজং হাসপাতাল। রোগের পর ফের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে রোগীদের সাহায্য করাই এই নির্দেশিকার লক্ষ্য। এতে ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকা প্রকাশ উপলক্ষে শনিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. নির্মল কুমার গাঙ্গুলি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ড. হর্ষবর্ধন এবং ড. বিজয় মোহন কোহলি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এসইএআরও-র আঞ্চলিক উপদেষ্টা ড. তাশি তোবগে-সহ বহু প্রবীণ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ক্রমবর্ধমান হৃদরোগের কথা উল্লেখ করে ড. নির্মল কুমার গাঙ্গুলি এই ধরনের পরিষেবা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারতীয় পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তৈরি এই নির্দেশিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নির্দেশিকার ফলে হৃদরোগীদের চিকিৎসা ও পরিচর্যায় একরূপতা আসবে। রোগের পর শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গ্রহণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এটি রোগীদের সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। হৃদরোগ থেকে সুস্থ হওয়ার পর শুধু ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। সঠিক ব্যায়াম, উন্নত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ কমানো এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনও প্রয়োজন। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন অর্থাৎ হৃদরোগের পর শরীরকে ফের শক্তিশালী করে তোলার প্রক্রিয়ার জন্য এই নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে।

নির্দেশিকা তৈরির দলের অন্যতম প্রধান সদস্য ড. সুমন বাদল জানান, ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে পরিষেবার পরিকাঠামো, চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর প্রাপ্যতা এবং রোগীদের সচেতনতার ক্ষেত্রে যে পার্থক্য রয়েছে, তাও এতে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

এই নির্দেশিকায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, ফিজিওথেরাপিস্ট, ডায়েটিশিয়ান, মনোবিদ, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে সমন্বিতভাবে রোগীর পরিচর্যায় যুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ব্যায়াম করানো, খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি, মানসিক সহায়তা এবং ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধের উপায়গুলির উপরও নজর দেওয়া হবে।

এদিন নির্দেশিকা উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. রাকেশ কুমার শ্রীবাস্তব বলেন, ভারতে হৃদরোগীদের পুনর্বাসনের জন্য সহজ, সুসংগঠিত এবং ব্যাপক ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। একই ধরনের চিকিৎসা-নির্দেশিকা থাকলে রোগীরা আরও উন্নত এবং সমমানের পুনর্বাসন পরিষেবা পাবেন। পাশাপাশি হৃদরোগের চিকিৎসায় পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande