
আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক তথা বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক তাপস দে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
শনিবার সকালে প্রয়াত তাপস দে-র মরদেহ আগরতলা প্রেস ক্লাবে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিনের সহযোগী সদস্য হিসেবে প্রেস ক্লাবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেখানে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত ছিলেন আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার, সম্পাদক রমাকান্ত দে, বরিষ্ঠ সাংবাদিক সুবল কুমার দে সহ অন্যান্য সদস্যরা।
এদিন বরিষ্ঠ সাংবাদিক সুবল কুমার দে প্রয়াত তাপস দে-কে স্মরণ করে বলেন, সত্তরের দশকে তিনি রাজ্যের অন্যতম রসিক ও বর্ণময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে সুবল কুমার দে বলেন, তাপস দে ছিলেন অত্যন্ত উপকারী মানসিকতার মানুষ। বিধায়ক থাকাকালীন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন দফতরে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানান তিনি। প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন তিনি।
এরপর প্রয়াত তাপস দে-র মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ত্রিপুরা বিধানসভায়। বিধানসভা প্রাঙ্গণে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, কংগ্রেস বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস, টিটিএএডিসি-র মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রুনিয়েল দেববর্মা, বিধায়ক বিশ্বজিৎ কলই সহ বিভিন্ন দলের বিধায়ক ও নেতৃবৃন্দ।
বিধানসভায় প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, তাপস দে ছিলেন একজন বর্ণময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৭২ সালে কংগ্রেস দলের হয়ে শালগড়া নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিপ্রা মথায় যোগদান করেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে তিনি এবং দলের সকলেই গভীরভাবে মর্মাহত বলে জানান সুদীপ রায় বর্মন।
এদিন বিধানসভা প্রাঙ্গণে তিপ্রা মথা-র পক্ষ থেকেও প্রয়াত তাপস দে-কে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক বিধায়ক ও এমডিসি। টিটিএএডিসির মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রুনিয়েল দেববর্মা বলেন, তাপস দে ছিলেন রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা। তাঁর প্রয়াণে তিপ্রা মথা পরিবারের সকলেই গভীরভাবে শোকাহত বলে জানান তিনি।
প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে-র প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিপ্রা মথা-র সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনসহ রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ