
বক্সনগর (ত্রিপুরা), ১২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : এ যেন একেবারে ‘প্রদীপের নিচেই ঘোর অন্ধকার’! সীমান্তঘেরা এলাকায় অপরাধ ও মাদক পাচারে রাশ টানতে যেখানে ২৪ ঘন্টা কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, সেই নাকা চেকিং পয়েন্টের একেবারে কাছ থেকেই উদ্ধার হলো সচল তাজা পিস্তল, কার্তুজ এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট। ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত গলাচিপা এলাকায় শনিবারের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিরাপত্তার কড়া নজরদারির মধ্যেই নাকা পয়েন্টের এত কাছে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে প্রশাসন। হতবাক যৌথ বাহিনীর জওয়ানরাও।
গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে শনিবার দুপুর থেকে গলাচিপা এলাকায় যৌথ চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করে ৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিএসএফ এবং কলমচৌড়া থানার পুলিশ। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সন্দেহজনক স্থান এবং যাতায়াতের রাস্তা ধরে তল্লাশি চালানোর সময় নাকা পয়েন্টের একেবারে কাছে রাস্তার পাশে থাকা একটি বাঁশের মাচার নিচে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে জওয়ানদের।
এরপর ওই স্থানটি ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি। বাঁশের মাচার নিচে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় পলিথিনে মোড়ানো একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল। পুলিশের দাবি, অস্ত্রটি সচল এবং ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় ছিল। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। একই জায়গা থেকে প্রায় ১২০ গ্রাম নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাকা চেকিং পয়েন্টের এত কাছে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে ওই বিপজ্জনক সামগ্রী সেখানে পৌঁছল? সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত সশস্ত্র পুলিশ ও বিএসএফ জওয়ানদের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও নাকা পয়েন্টের কেন্দ্রস্থলের এত কাছে অস্ত্র ও মাদক লুকিয়ে রাখার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার পর নাকা এলাকায় আরও জোরদার করা হয় তল্লাশি অভিযান। সাঁড়াশি অভিযানে পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে। ধৃতদের নাম জয়নাল হোসেন, বাড়ি বক্সনগর এবং কর্ণজিৎ সরকার, বাড়ি দক্ষিণ কলমচৌড়া। তাঁদের কলমচৌড়া থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া হওয়ায় পাচারকারীরা ধরা পড়ার আশঙ্কায় অস্ত্র ও মাদকের চালানটি তড়িঘড়ি করে বাঁশের মাচার নিচে লুকিয়ে রাখতে পারে। পরে সুযোগ বুঝে সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া অথবা নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলেও অনুমান করা হচ্ছে।
তবে উদ্ধার হওয়া পিস্তল ও ইয়াবা কার জন্য আনা হয়েছিল, কোথা থেকে এই চালান এসেছিল এবং এর পিছনে আরও বড় কোনও পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃত দুই সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়মিত চললেও নিরাপত্তা বলয়ের একেবারে কাছে থেকে একই সঙ্গে পিস্তল, কার্তুজ ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনও ব্যক্তি বা বড়সড় পাচারচক্রের নাম উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ