
নয়াদিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.): কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) ডা. জিতেন্দ্র সিং রবিবার বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উৎপাদনের পরিমাণের বিচারে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রস্তুতকারক এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। দেশের বৈচিত্র্যময় রোগের পরিস্থিতি এবং দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা মিলিয়ে টিকা গবেষণা, মহামারীর প্রস্তুতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জৈব-চিকিৎসা সমাধান তৈরির ক্ষেত্রে ভারতকে এক অনন্য মঞ্চ দিয়েছে। মহামারীর পূর্বপ্রস্তুতির ক্ষেত্রে ভারত এক দশক আগের সীমাবদ্ধতাকে অনেক পিছনে ফেলে এসেছে এবং ভবিষ্যতের মহামারী মোকাবিলায় বিশ্বের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সক্ষম।
নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে রবিবার জৈবপ্রযুক্তি দফতর (ডিবিটি) এবং ‘মহামারীর প্রস্তুতির জন্য উদ্ভাবন জোট’ (সেপি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেপি পরিচালন পর্ষদ ও বিনিয়োগকারী পরিষদের উচ্চপর্যায়ের স্বাগত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ডা. জিতেন্দ্র সিং। এক দশক পর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই বৈঠককে ভারত-সেপি অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত এখন আর শুধু সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গবেষণা ও উদ্ভাবন থেকে শুরু করে উন্নত জৈব-পণ্য তৈরি, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন—পুরো পরিসরেই দেশ শক্তিশালী সক্ষমতা গড়ে তুলেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ভারত বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করে। বিশ্বে উৎপাদিত মোট টিকার প্রায় ৬০ শতাংশ একাই ভারতে তৈরি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়মিত টিকাকরণ কর্মসূচির ৬৫ শতাংশেরও বেশি চাহিদা ভারত পূরণ করে। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ভারতের জৈব-অর্থনীতি ১৮ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির হার নিয়ে ১৯৫.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জৈব-ঔষধ ক্ষেত্রের অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি দেশে জৈবপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের স্টার্টআপের সংখ্যা বেড়ে ১১,৮৫৫ হয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই এই ক্ষেত্রে ১,৭৮০টি নতুন উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে।
করোনা মহামারীর সময়কার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ডা. জিতেন্দ্র সিং বলেন, ভারত শুধু রেকর্ড সময়ে দেশীয় টিকা তৈরি করেনি, অন্যান্য দেশেও তা সরবরাহ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, একদিকে ভারত সংক্রামক রোগের মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে অসংক্রামক রোগ এবং বিপাকীয় সমস্যার দ্বৈত চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি। রোগের এই বৈচিত্র্য রোগজীবাণু সম্পর্কে গভীরভাবে বোঝাপড়া এবং নতুন টিকা তৈরির ক্ষেত্রে গবেষকদের অনন্য সুযোগ দিচ্ছে। অতীতে বিদেশি গবেষকরা এমন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস নিয়ে গবেষণার জন্য ভারতে আসতেন, যেগুলি তাঁদের নিজেদের দেশে পাওয়া যেত না। বর্তমানে এই বৈচিত্র্যই ভারতের কৌশলগত বৈজ্ঞানিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ডা. সিং জানান, জৈবপ্রযুক্তি দফতর এবং সেপির যৌথ উদ্যোগ ‘ইন্ড-সেপি মিশন’ দেশের প্রথম এমআরএনএ কোভিড-১৯ টিকা ‘জেমকোভ্যাক-১৯’, চিকুনগুনিয়ার নিষ্ক্রিয় টিকা— যা বর্তমানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের মানবদেহে পরীক্ষায় রয়েছে এবং মাঙ্কিপক্স ও শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের বিরুদ্ধে ন্যানো-কণা ভিত্তিক উন্নত টিকা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এছাড়া, ব্রিক-টিএইচএসটিআই-এর জৈব-পরীক্ষাগার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। টিকা উন্নয়নের জন্য এই পরীক্ষাগারে ইতিমধ্যে এক লক্ষেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভারত ১৪টি বন্ধু দেশের ২,৪০০-রও বেশি বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গোটা অঞ্চলে পরীক্ষার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য