নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের
কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচন এবং প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন,
দিলীপ ঘোষ


কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচন এবং প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, আদালত বা নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত হবে। যাকে সুযোগ দেওয়া হবে, সে সেই সুযোগের ব্যবহার করবে। তৃণমূলের ভেতরে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

দিলীপ ঘোষ বলেন, “যে দলকে মানুষ ছেড়ে গেছে, সেখানে আবার আসল আর নকলের বিষয় কী? গত নির্বাচনে তো প্রতীকে লড়েও হারতে হয়েছিল। নির্বাচনী প্রতীকটা এখানে বড় কথা নয়।” বিজেপি একটি সুসংগঠিত দল উল্লেখ করে তিনি জানান, উপনির্বাচনের মতো ক্ষেত্রেও তাঁদের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকের পরেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

তৃণমূলের ওপর তোপ দেগে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “অনেকেই প্রার্থী দেবে। যাদের হেরে যাওয়ার ভয় থাকে, তারা একটু প্রচার পাওয়ার জন্য আগেই প্রার্থী ঘোষণা করে দেয়। বিজেপি নিয়মানুগ ও সুসংগঠিত দল। আমাদের ঐতিহ্য ও নিয়ম মেনেই প্রার্থী বাছাই হবে এবং আমরাই জয়ী হব।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, সে দলে দুর্নীতিগ্রস্ত ছাড়া আর কেউ নেই। জনগণ ইতিমধ্যেই একবার রায় দিয়েছে এবং এবারও তারা সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।

কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রবীণ বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের দেওয়া প্রস্তাবের সমর্থনেও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, এই ধরনের পরিবর্তনের জন্য বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির তরফ থেকে প্রস্তাব আসে, যা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ দল গঠিত হয় এবং তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, কলকাতায় এখনও বহু রাস্তার নাম ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নামে রয়েছে। এমনকি যেসব ব্যক্তি ব্রিটিশ শাসনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁদের নামেও কিছু রাস্তা রয়েছে যা দেশের জন্য গর্বের বিষয় নয়। পাশাপাশি, বিদেশি ব্যক্তিত্বদের নামে থাকা রাস্তা ও তাঁদের মূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তির নাম বা মূর্তি তাঁদের নিজেদের দেশে আর নেই, ভারতে তাঁদের নাম রাখার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ অক্টোবর ভোট গণনা করা হবে। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই দুটি কেন্দ্রেই প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।

তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রাম আসন থেকে সঞ্চিতা প্রধানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের মাকে নন্দীগ্রাম আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী করা হতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande