আরআইএস সেমিনারে ভারত-নেপাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর
নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : ''রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ'' (আরআইএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্ককে সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়নের এক নতুন মাত্রায় উন্নীত কর
আরআইএস সেমিনার


আরআইএস সেমিনার


নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : 'রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ' (আরআইএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্ককে সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়নের এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে নেপালের অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে জানান, দুই দেশের সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার এক সুবর্ণ সুযোগ উপস্থিত হয়েছে।

শনিবার আরআইএস-এর সৌজন্যে 'উদীয়মান বিশ্বব্যবস্থায় ভারত-নেপাল সম্পর্কের নতুন দিগন্ত' শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেপালের অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে, ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব (উত্তর) মুনু মহাবর, দিল্লি স্কুল অফ ইকোনমিক্সের অধিকর্তা অধ্যাপক রাম সিং, ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব তথা আরআইএস-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্যাম শরণ, আরআইএস পরিচালনা পর্ষদ ও কাউন্সিল সদস্য ড. শেষাদ্রি চারি এবং আরআইএস-এর অণুমহানির্দেশক অধ্যাপক শচীন কুমার শর্মা সহ বিপুল সংখ্যক নীতি-নির্ধারক, কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, পর্যটন, ডিজিটাল এবং আর্থিক অংশীদারিত্বের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্ক নিছক দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়; বরং এটি ভাগ করে নেওয়া ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সুদৃঢ় যোগাযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সীমান্ত পারাপার, বিদ্যুৎ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক মেলবন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুনু মহাবর জানান, বিগত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ বাণিজ্য, সড়ক ও রেল সংযোগ, পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সহ একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়নে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে উভয় পক্ষকে আরও বৃহৎ ও রূপান্তরকারী উদ্যোগে জোর দিতে হবে।

অধ্যাপক রাম সিং উল্লেখ করেন, ভারত ও নেপালের সুসম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের অবাধ সীমান্ত ও সামাজিক ধারাবাহিকতা। এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও আধুনিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন। ড. শেষাদ্রি চারি এবং অধ্যাপক শচীন কুমার শর্মা উভয়েই বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে কৌশলগত যৌথ প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সেমিনারে আন্তর্জাতিক স্তরের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলি নিয়েও গভীর চিন্তাভাবনা আদান-প্রদান করা হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande