
কোচবিহার, ২২ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার কোচবিহার সফরে এসে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার ইতিবাচক ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার জেলায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিক ও সংগঠনের নিজের দাবি এবং মতামত ব্যক্ত করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ‘কামতাপুর রাজ্য ডিমান্ড কাউন্সিল’-এর প্রতিনিধিরা যদি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান, তবে তাঁরা কলকাতায় নবান্নে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয় 'উত্তরকন্যা'-তেও এই বৈঠক হতে পারে, কারণ তিনি নিজে মাসে অন্তত দু'বার উত্তরকন্যায় উপস্থিত থাকেন বলে উল্লেখ করেন।
প্রয়োজনে কোচবিহারেই আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠন এবং কামতাপুরী ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘কামতাপুর রাজ্য ডিমান্ড কাউন্সিল’। গত সপ্তাহেই এই দাবির সমর্থনে কোচবিহারে এক বিশাল সমাবেশ আয়োজন করে জেলা শাসকের দফতরে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল সংগঠনটি।
এদিন ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী মদনমোহন মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনা নিবেদনের মাধ্যমে নিজের কোচবিহার সফর শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর স্থানীয় রবীন্দ্র ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি। উক্ত বৈঠকে জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়নমূলক ও পরিকাঠামোগত কাজ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত সম্পর্কিত সংবেদনশীল বিষয়গুলির বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে কোচবিহার শহরের সৌন্দর্যায়ন এবং জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় ও নিখুঁত করতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) প্রয়োজনীয় বকেয়া জমি দ্রুত হস্তান্তরের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসম থেকে পশ্চিমবঙ্গে বেআইনিভাবে সুপারি ও কয়লা বোঝাই লরি প্রবেশ করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনকে সীমান্তবর্তী এলাকায় যে কোনো ধরনের অবৈধ কারবার ও বেআইনি চাষের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ