
নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর (হি.স.): দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন লাখ লাখ সাধারণ ভোটারকে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা দিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, কোনওরকম চিন্তাভাবনা ছাড়াই প্রায় যান্ত্রিক উপায়ে একের পর এক ভোটারকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ঠিক কীসের ভিত্তিতে বা কোন সমীকরণে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ করা হচ্ছে, কমিশনকে তা স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং অমৃতা জোহরি নামক দুই সমাজকর্মীর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ আবেদনের ভিত্তিতে এদিনের শুনানি হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, ঠিক কী কারণে কোনও ভোটারের নামে নোটিস জারি হচ্ছে কিংবা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ শ্রেণিতে ফেলার মাপকাঠি কী - সে বিষয়ে দিল্লি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা জাতীয় নির্বাচন কমিশন কোনও স্বচ্ছতা বজায় রাখছে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজীবীদের সওয়াল
মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে সওয়াল করেন, দিল্লি জুড়ে প্রায় ৩৩.১৩ লাখ ভোটারকে অত্যন্ত তুচ্ছ ও অস্পষ্ট কারণে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, যা কার্যত উদ্বেগজনক।
তাঁর এই যুক্তির সঙ্গে প্রাথমিক সম্মতি জানিয়ে বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, একেবারে যান্ত্রিক উপায়ে প্রতিটি নোটিস পাঠানো হচ্ছে। সমস্ত সম্ভাবনা বলছে, এগুলি যন্ত্র বা সফটওয়্যার দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি নোটিস। একই সুর মিলিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বিষয়টির ব্যাখ্যা আপনাদের আরও একটু স্পষ্টভাবে দিতে হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত