
কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : বীরভূম জেলায় পাথর খনি মালিকদের মাধ্যমে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমানে বিস্ফোরক সামগ্রী কেনার একটি গুরুতর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই খনি মালিকদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, পাথর খনিতে পাহাড় বা পাথর ভাঙার কাজে মূলত জিলেটিন স্টিক, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং ডিটোনেটরের মতো বিস্ফোরক উপাদানের প্রয়োজন হয়। তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে, খনি মালিকদের একটি বড় অংশ নিজেদের প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বহুগুণ বেশি পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রী কেনাকাটা করছে। সম্প্রতি বীরভূম জেলার নলহাটি এলাকা থেকে একটি ট্র্যাক্টর ভর্তি বিপুল পরিমাণ জিলেটিন স্টিক, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও ডিটোনেটর আটক করা হয় এবং এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রামপুরহাটের এক পাথর খনি মালিকের নির্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা সমস্ত তথ্য মেলাতে গিয়ে দেখতে পান যে, ওই খনি মালিক তাঁর খনির দৈনিক চাহিদার চেয়ে বহু গুণ বেশি বিস্ফোরক আনিয়েছিলেন। এরপর এনআইএ-র আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট খনি মালিককে তলব করে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চালান। সেই জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই প্রকাশ্যে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য— ওই খনি মালিক একা নন, জেলার আরও বহু খনি মালিক ঠিক একইভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিস্ফোরক কিনে জমা করছেন।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের তদন্ত প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে আধিকারিকদের মূল নজর হলো, কেন নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণের এই অতিরিক্ত বিস্ফোরক আনানো হচ্ছিল? সংগৃহীত অতিরিক্ত বিস্ফোরক অন্য কোথাও গোপনে বিক্রি করা হচ্ছিল কি না এবং যদি বিক্রি হয়ে থাকে, তবে কারা এর আসল সুবিধাভোগী বা ক্রেতা— তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি এই বিপজ্জনক বিস্ফোরক সামগ্রী কোনো উগ্রপন্থী বা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত সংগঠনের হাতে পৌঁছে যাচ্ছিল কি না, তা নিয়েও তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে বীরভূম জেলা থেকে জিলেটিন স্টিক, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং ডিটোনেটরের মতো বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা প্রায় প্রতি সপ্তাহের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক রদবদলের পর থেকে বীরভূম জেলা পুলিশ এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি