
কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : মাদক পাচারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে এক বড়সড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স । নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর ফার্স্ট অ্যাডিশনাল জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাচারের এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দুই অভিযুক্তকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আলম মন্ডল এবং আলআমিন মন্ডল। গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত উভয় দোষীকে দুই লক্ষ টাকা করে জরিমানার নির্দেশও দিয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত এক লক্ষ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।
বুধবার সকালে এসটিএফ-এর পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নদীয়া জেলার নবদ্বীপ থানার অন্তর্গত মুকুন্দপুর এলাকায় ১২ চাকার একটি লরি বা ট্রাক আটক করে এসটিএফ। লরিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে তার ভেতরে বিশেষ কৌশল ও কাঠামোর মাধ্যমে তৈরি গোপন কুঠুরি থেকে মোট ৪৪৭.২ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়। ঘটনার স্থান থেকেই গ্রেফতার করা হয় দুই পাচারকারী আলম মন্ডল ও আলআমিন মন্ডলকে।
হাই-প্রোফাইল এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তদন্তকারী আধিকারিক মহিতোষ রায়কে। তিনি বৈজ্ঞানিক উপায়ে সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট পেশ করেন।
মামলা চলাকালীন রাজ্য সরকারের পক্ষে অত্যন্ত শক্তভাবে সওয়াল করেন বিশেষ সরকারি আইনজীবী সুবেদী সান্যাল। নিরেট তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য ও যুক্তির ওপর ভিত্তি করে আদালত দুই অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করে এই কঠোর সাজা বহাল রাখে। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ দফতরের মতে, ‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ার সামাজিক ও যৌথ অঙ্গীকারের লক্ষ্যে এই রায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রাপ্তি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি