
হাফলং (অসম), ৩ সেপ্টেম্বর (হি স)। সাংবিধানিক ভাবে নির্ধারিত ‘নর্থ কাছাড় হিলস অটোনমাস কাউন্সিল’ বা ‘উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ’-এর পরিবর্তে ‘ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদ’ নামটি জোর করে ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানাল ইন্ডিজেনাস পিপলস ফোরাম (আইপিএফ)। তাদের দাবি, কোনও পরিষদের বিজ্ঞপ্তি, প্রস্তাব বা প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে সাংবিধানিক ভাবে নির্ধারিত কোনও ব্যবস্থা বা নাম পরিবর্তন করা যায় না।
বৃহস্পতিবার আইপিএফের কার্যকরী সভাপতি সামছুদ্দ্যেন বে জেমেই বলেন, ‘‘সাংবিধানিক ভাবে নির্ধারিত নাম কোনও প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’’ তাঁর দাবি, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে পরিষদের মুখ্য সচিব একটি নির্দেশ জারি করে সমস্ত দফতরের প্রধানকে পরিষদের নাম হিসেবে ‘ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদ’ ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইপিএফ।
আইপিএফের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি আগেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নজরে আনা হয়েছিল। সংগঠনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তখন তাদের জানিয়েছিলেন যে পরিষদের নাম পরিবর্তন করা হয়নি এবং এর সঠিক নাম এখনও ‘এনসি হিলস অটোনমাস কাউন্সিল’ই রয়েছে।
কিন্তু তার পরেও ৩১ আগস্ট পরিষদের মুখ্য সচিবের তরফে নতুন নির্দেশ জারি হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে আইপিএফ। সংগঠনের অভিযোগ, এই নির্দেশ জারি করার সময় ও পদ্ধতি নিয়েও যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে জেলার আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভুল বোঝাবুঝি, বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে।
আইপিএফের বক্তব্য, যখন সুশাসন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন, তখন নামকরণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি মূল সমস্যা থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কোনও একটি পক্ষকে ‘বলির পাঁঠা’ করার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে ডিমা হাসাও জেলার বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছে আইপিএফ। তাদের বক্তব্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা কঠোর ভাবে সতর্ক থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে আইপিএফ এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সংগঠন ৩১ আগস্টের নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সাংবিধানিক ভাবে নির্ধারিত নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। দাবিপূরণের জন্য প্রশাসনকে ১৪ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আইপিএফের কার্যকরী সভাপতি সামছুদ্দ্যেন বে জেমেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে রেলপথ ও জাতীয় সড়ক অবরোধ-সহ অনির্দিষ্টকালের বন্ধ কর্মসূচি গ্রহণ করতে তারা বাধ্য হবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব