

হাফলং (অসম), ৩ সেপ্টেম্বর (হি স): পাহাড়ি জনজীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মিথুনকে শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পশুসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন পালনের কৌশলের উপর জোর দেওয়া হল হাফলংয়ে। বৃহস্পতিবার জেলা গ্রন্থাগার প্রেক্ষাগৃহে পালিত চতুর্থ মিথুন দিবসে অবাধ বিচরণভিত্তিক পালন ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে আধা-নিবিড় পালনে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
‘মিথুন—আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের গর্ব’—এই বার্তা সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিথুনের সংখ্যা বৃদ্ধি, উন্নত প্রজনন, সুষম খাদ্য, রোগ প্রতিরোধ, পশু-বিমা এবং বাজারজাতকরণের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক পালন ব্যবস্থা চালু করা গেলে এক দিকে মিথুনের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, অন্য দিকে পশুপালকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে মিথুন মূলত অবাধে বিচরণ করে। এর ফলে খাদ্য, স্বাস্থ্য, প্রজনন এবং নিরাপত্তার উপর নিয়মিত নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আধা-নিবিড় পালনের মাধ্যমে মিথুনের পরিচর্যা ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুরা রোগের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাকরণের আওতা বৃদ্ধি এবং পশু-বিমার সুবিধা সম্প্রসারণের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মিথুনের মৃত্যুও পাহাড়ি এলাকায় উদ্বেগের কারণ। তাই নিরাপদ পালন ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন একই বংশের মধ্যে প্রজননের ফলে সম্ভাব্য বংশগত দুর্বলতা রুখতে পরিকল্পিত প্রজনন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
মিথুনপালকদের সংগঠিত করতে কৃষক উৎপাদক সংগঠন ও ফেডারেশন গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে পশুখাদ্য, চিকিৎসা, প্রজনন ও বাজারজাতকরণে ছোট ও প্রান্তিক পশুপালকেরা সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষিকাজের সঙ্গে মিথুন পালনকে যুক্ত করে সমন্বিত জীবিকা ব্যবস্থার উপরও জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগাল্যান্ডের মেডজিফেমায় অবস্থিত আইসিএআর–ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন মিথুন। সহযোগিতায় ছিল বেঙ্গালুরুর ভারতীয় পশুচিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের পশুপালন ও পশুচিকিৎসা বিভাগ।
প্রধান অতিথি ছিলেন অসম সরকারের পশুপালন ও পশুচিকিৎসা এবং মৎস্য বিভাগের মন্ত্রী নীলিমা দেবী। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যবাহী সদস্য দেবলাল গাৰ্লচা এবং অরুণাচল প্রদেশ সরকারের কৃষি, পশুপালন ও পশুচিকিৎসা বিভাগের মন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল ডেনওয়াং ওয়াংসু।
এ ছাড়া বিধায়ক রূপালী লাংথাসা, পরিষদের কার্যবাহী সদস্য মনজিৎ নাইডিং, আইসিএআর সদর দফতরের উপ-মহাপরিচালক ড. রাঘবেন্দ্র ভট্ট, অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. কে. এম. বুজরবৰুৱা, অসম পশু ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিরঞ্জন কলিতা এবং আইসিএআর–ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন মিথুনের অধিকর্তা ড. গিরিশ পাটিল উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, মিথুনের সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা—দুই দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। বিজ্ঞানভিত্তিক পালন, উন্নত প্রজনন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি অর্থনীতিতে মিথুন নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব