বিমানবন্দর-রেলস্টেশনে অ্যাপ ক্যাব, এআই-চালিত পর্যটন তথ্যকেন্দ্রের যাত্রা শুরু
আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ত্রিপুরায় পরিবহণ ও পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও পর্যটকবান্ধব করে তুলতে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলিতে অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা চালু হলো। একই সঙ্গে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে উদ্
বিমানবন্দরে পর্যটন তথ্যকেন্দ্র


আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ত্রিপুরায় পরিবহণ ও পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও পর্যটকবান্ধব করে তুলতে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলিতে অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা চালু হলো। একই সঙ্গে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হলো আধুনিক পর্যটন তথ্যকেন্দ্র। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দুই পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যের পর্যটন ও পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরের পাশাপাশি আগরতলা রেলস্টেশন এবং যোগেন্দ্রনগর রেলস্টেশনকেও ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়। ফলে রাজ্যে আগত পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ কেন্দ্রগুলিতে অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো। এর ফলে যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে আরও সহজ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা এবং আধুনিক পর্যটন তথ্যকেন্দ্র আগামীদিনে রাজ্যের পরিবহণ ও পর্যটন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে সহজে তথ্য পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে এর মাধ্যমে।

এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আধুনিক পর্যটন তথ্যকেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর ‘ট্যুরিজম মেটাভার্স’-এর সূচনা। এর মাধ্যমে বহিঃরাজ্য এবং বিদেশ থেকে ত্রিপুরায় আসা পর্যটকরা বিমানবন্দর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

কোন পর্যটনকেন্দ্রে কীভাবে যাওয়া যাবে, সেখানে কী কী দেখার সুযোগ রয়েছে, কোথায় থাকা যায়—পর্যটকদের এমন একাধিক প্রয়োজনীয় তথ্য ‘ট্যুরিজম মেটাভার্স’-এর মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দরে নামার পর পর্যটকদের পর্যটন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে হবে না, প্রযুক্তির সহায়তায় এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ পাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটকদের কাছে ত্রিপুরাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শুধু পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, পর্যটকদের যাতায়াত, তথ্যপ্রাপ্তি এবং পরিষেবার মানও উন্নত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিষেবাগুলি চালু করা হয়েছে।

এদিন বিমানবন্দরের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অটোচালকদেরও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন পর্যটন মন্ত্রী। বহিঃরাজ্য থেকে আসা পর্যটকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার জন্য তিনি অটোচালকদের নির্দেশ দেন। যাত্রীদের জোর করে নির্দিষ্ট অটোতে ওঠানোর প্রবণতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “আমার অটোতেই যেতে হবে”—এই ধরনের মানসিকতা নিয়ে চললে রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পর্যটকদের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্য ও পছন্দকে গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা জোরজবরদস্তির কোনও অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলে তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

পর্যটন শিল্পের সঙ্গে পরিবহণ পরিষেবার সরাসরি যোগ রয়েছে। বাইরে থেকে আসা পর্যটকের কাছে বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে প্রথম অভিজ্ঞতাই অনেক সময় রাজ্য সম্পর্কে তাঁর ধারণা তৈরি করে। তাই পরিবহণকর্মী, অটোচালক এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সকলকে দায়িত্বশীল ও পর্যটকবান্ধব ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়।

নতুন অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা এবং এআই-নির্ভর পর্যটন তথ্যকেন্দ্র চালুর ফলে একদিকে যেমন যাত্রী পরিবহণে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছে ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও আধুনিকভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে এই নতুন পরিষেবাগুলি আগামীদিনে রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande