
ফতেহপুর, ৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার বিকমপুর গ্রামে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে তলোয়ার নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে পবন (৪০)-এর বিরুদ্ধে। তাঁর তলোয়ারের আঘাতে পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা পবনকে ধরে বেধড়ক মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছে, পবনের হামলায় তাঁর শ্যালক রাজেশ, শ্যালিকার স্বামী বুদ্ধা এবং তিন ভাগ্নে প্রদীপ, রাজকরন ও গোড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রথমে ফতেহপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের কানপুরের হ্যালেট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার আগে পবন তাঁর এক শ্যালক রাজুকে ভাগ্নের জন্য মেয়ে দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই রাজুর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পবন হাতে তলোয়ার নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছেছিলেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি তাঁদের ওপর হামলা চালান। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পবনের হাতে তলোয়ার এবং পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তাঁরা পবনকে ধরে মারধর শুরু করেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ অফিসার সুশীল কুমার দুবে এবং দীনেশ কুমার শুক্লার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ অফিসার সুশীল কুমার দুবে জানান, আহতদের মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজ রাজুর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস