টানেলের ভিতর ‘পুকুর’! নৃরিমবাংলোয় বেহাল ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক বড় বড় গর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, টোল আদায় হলেও রাস্তা মেরামত নিয়ে ক্ষোভ
হাফলং (অসম), ৪ সেপ্টেম্বর (হি স): শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের অংশ, ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নৃরিমবাংলো এলাকার টানেলের ভিতরের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরেই টানেলের ভিতরে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশালাকার গর্ত। কোথাও কোথাও সে
NH 27


NH 27


হাফলং (অসম), ৪ সেপ্টেম্বর (হি স): শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের অংশ, ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নৃরিমবাংলো এলাকার টানেলের ভিতরের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরেই টানেলের ভিতরে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশালাকার গর্ত। কোথাও কোথাও সেই গর্ত এতটাই গভীর যে, দেখলে মনে হচ্ছে জাতীয় সড়কের উপর যেন ছোট ছোট পুকুর! ফলে টানেলের ভিতর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের জন্য তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার অবস্থা খারাপ হলেও সংস্কারের ক্ষেত্রে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (নাহাই) তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই টানেলের ভিতরের বড় বড় গর্তে পড়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি তাঁদের। রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। টানেলের ভিতরে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতার অভাবে গর্ত এড়িয়ে চলাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও আলোচনা হয়েছে। ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন এবং ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের সঙ্গে নাহাই কর্তৃপক্ষের একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠকের পরেও নৃরিমবাংলো টানেলের ভিতরের রাস্তা সংস্কারের কাজে প্রত্যাশিত গতি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বার বার প্রশাসনিক বৈঠকের পরেও কেন দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে না?

শুধু নৃরিমবাংলো টানেল নয়, হাতিখালি থেকে নৃরিমবাংলো পর্যন্ত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশের অবস্থাও বেশ কিছু জায়গায় শোচনীয়। রাস্তার কোথাও পিচ উঠে গিয়েছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষার পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এদিকে, মান্দারডিসায় এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের কাছ থেকে নিয়মিত টোল আদায় করা হলেও রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা। তাঁদের বক্তব্য, টোল আদায় করা হলে রাস্তার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন বাড়ে, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যানবাহনও।

ডিমা হাসাওয়ের পাহাড়ি অঞ্চলের সঙ্গে শিলচর-সহ বরাক উপত্যকার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথ। প্রতিদিন বহু যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করে। ফলে দ্রুত নৃরিমবাংলো টানেল-সহ হাতিখালি থেকে নৃরিমবাংলো পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি উঠেছে।

যাত্রী ও স্থানীয়দের বক্তব্য, দুর্ঘটনা ঘটার পরে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তার আগেই বিপজ্জনক গর্তগুলি মেরামত করা উচিত। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande