
নয়াদিল্লি, ৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নেপথ্যে থাকা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত একাধিক মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এর মধ্যে তিনটি মামলায় দেশের ২০টি রাজ্যের ৮৯টি জায়গায় ব্যাপক ও সমন্বিত তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। পুরো অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই তিনটি মামলার মধ্যে একটি বিআইটিএস পিলানির সঙ্গে যুক্ত। এই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে তিন মাস ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ রাখা হয়। পুলিশ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে আসা প্রতারকরা তাঁর কাছ থেকে ৭.৬৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। অন্য একটি মামলায় গুজরাটের এক ব্যক্তিকেও তিন মাস ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ রাখা হয়। পুলিশ আধিকারিক পরিচয়ে প্রতারকরা তাঁর কাছ থেকে ১৯.২৪ কোটি টাকা প্রতারণা করে। তৃতীয় মামলাটি কর্ণাটকের। সেখানে এক ব্যক্তিকে এক মাস ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ রেখে ১৫.৪৫ কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়।
শুক্রবার সিবিআই জানিয়েছে, অভিযানের সময় প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থের গতিপথ অনুসন্ধান, সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা সুবিধাভোগী ও পরিচালকদের শনাক্ত করা এবং প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আগেই তা বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে একযোগে পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযানের সময় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশির সময় জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার টাকা গ্রহণ, তা লেয়ারিং অর্থাৎ একাধিক অ্যাকাউন্টে ঘোরানো এবং পরে অন্যত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা জানা যায়।
হরিয়ানার বাসিন্দা আকাশের অ্যাকাউন্টে প্রতারণার টাকার মধ্যে ১.৯৫ কোটি টাকা জমা হয়েছিল। সে নিজেই ওই অ্যাকাউন্ট খুলেছিল এবং একই দিনে দ্রুত সেই টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে দেয়। সিবিআইয়ের মতে, এর মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ে তার সরাসরি ও ইচ্ছাকৃত ভূমিকার প্রমাণ মেলে। কলকাতার রাজা করমাকরের ফার্মের অ্যাকাউন্টে প্রতারণার টাকার মধ্যে ১.৫ কোটি টাকা জমা হয়েছিল। জ্যোতি রানির অ্যাকাউন্টেও প্রতারণার টাকার একটি অংশ জমা হয়। তিনি তার কিছুটা নগদে তুলে নেন এবং বাকি টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন।
তল্লাশির সময় ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, অ্যাকাউন্টের রেকর্ড, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই সমস্ত প্রমাণের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী বৃহৎ আর্থিক ও প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য