
ঝাড়্গ্রাম, ৪ সেপ্টেম্বর ( হি. স.): বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে এক জনজাতি তরুণীকে ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল সাত যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযোগ পাওয়ার পরই পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে লালগড় থানার পুলিশ। ধৃত পাঁচজনই জনজাতি যুবক। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছর। বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। শুক্রবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২০ আগস্ট লালগড় থানা এলাকায়।অভিযোগকারী ২৪ বছরের ওই মহিলা বিবাহিত হলেও স্বামীর সঙ্গে থাকেন না। মায়ের সঙ্গে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকেন তিনি।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ওই মহিলা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন গ্রামের পূর্বপরিচিত এক যুবক তাঁকে বাইকে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নেয়। কিছুটা যাওয়ার পর ওই যুবক তার পিসির সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তাঁকে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে ওই যুবক তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর বাইরে গিয়ে আরও দু’জনকে ডেকে আনে। অভিযোগ, তারাও ওই মহিলার উপর যৌন নির্যাতন চালায়।অভিযোগ, এরপর আরও কয়েকজন যুবক সেখানে আসে। তাঁদের দেখে প্রথমে ওই মহিলা মনে করেছিলেন, হয়তো তাঁকে উদ্ধার করতেই তাঁরা এসেছেন। কিন্তু অভিযোগ, তাঁরাও নির্যাতন চালায়।ঘটনায় মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ওই মহিলা। পাশাপাশি তাঁকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রায় দু’সপ্তাহ পর, গত ৩ সেপ্টেম্বর কিছুটা মানসিকভাবে সামলে লালগড় থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা।অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতরা হল চন্দ্র সরেন (১৮), বাড়ি বাগনাড়া; সুজল হেমব্রম (২৪) ওরফে তুরুক, বাড়ি জয়পুর; মঙ্গল সরেন (৩২) ওরফে মধূ, বাড়ি নারচা; নবীন মুর্মু (২৫) ওরফে নিমুন, বাড়ি ছিটোপেলিয়া এবং ঠাকুরদাস টুডু (২৫), বাড়ি জয়পুর। শুক্রবার ধৃত পাঁচজনকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাকি দুই অভিযুক্তের সন্ধানেও তল্লাশি চলছে। ওই মহিলার মেডিক্যাল পরীক্ষাও করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জঙ্গলমহলে। কারণ, গত দেড় মাসে জেলার একাধিক এলাকায় ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রায় দেড় মাস আগে বেলিয়াবেড়া থানা এলাকায় ৫২ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের পর পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হলেও পরে মৃত্যু হয় নির্যাতিতা মহিলার। এরপর শিলদা এলাকাতেও এক জনজাতি নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বর্তমানে জেলবন্দি। পরপর এই ধরনের ঘটনায় জেলা জুড়ে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো