মেন রোডে টোটো নিষিদ্ধ, তবু দাপিয়ে চলাচল—বাঁকুড়ায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের নির্দেশ
বাঁকুড়া, ৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.): “টোটো চলাচল নিষিদ্ধ”—রাস্তার দু’পাশে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এমন বোর্ড লাগানো হয়েছে। অথচ সেই রাস্তাতেই দাপিয়ে চলাচল করছে টোটো। বাঁকুড়া শহরের এমনই ছবি দেখে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত রবিবার বাঁকুড়ার শুশ
মেন রোডে টোটো নিষিদ্ধ, তবু দাপিয়ে চলাচল—বাঁকুড়ায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের নির্দেশ


বাঁকুড়া, ৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.):

“টোটো চলাচল নিষিদ্ধ”—রাস্তার দু’পাশে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এমন বোর্ড লাগানো হয়েছে। অথচ সেই রাস্তাতেই দাপিয়ে চলাচল করছে টোটো। বাঁকুড়া শহরের এমনই ছবি দেখে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত রবিবার বাঁকুড়ার শুশুনিয়ায় পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান রাস্তাগুলিকে টোটোমুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেন। মন্ত্রীর বক্তব্য, রাস্তায় টোটোর রমরমার কারণেও বাস চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি পথ দুর্ঘটনা ও যানজট রোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে টোটো চলাচলে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জাতীয়, রাজ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কে টোটো চলাচল নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। বাঁকুড়া পুলিশের এই নির্দেশ যেমন টোটোচালকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তেমনই রাস্তার দু’পাশে লাগানো হয়েছে “টোটো চলাচল নিষিদ্ধ” বোর্ড।

অন্যদিকে, বাঁকুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির দু’পাশে নিষেধাজ্ঞার বোর্ড, ট্রাফিক পুলিশের কড়া নজরদারি—সবই রয়েছে। তার পরেও শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটোর অবাধ চলাচল দেখা যাচ্ছে।

বাঁকুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মাচানতলা থেকে ডিএম বাংলো, তামলিবাঁধ, পুলিশ লাইন, রবীন্দ্রভবন, ভৈরবস্থান, সার্কিট হাউস, লোকপুর ও সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঁকুড়ার প্রায় সমস্ত বাস এই রাস্তা ধরেই বাসস্ট্যান্ডে যায়। টোটোর রমরমা চলাচলের কারণে বাস চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ। একইভাবে এই রুট ধরে বাসস্ট্যান্ড বা হাসপাতাল থেকে স্টেশনেও টোটোর যাতায়াত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, মেডিক্যাল কলেজ, জেলাশাসকের দফতর-সহ বিভিন্ন সরকারি অফিস, স্কুল ও কলেজে যাতায়াতের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করতেই হয়। তাঁদের কাছে টোটোই ভরসা, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও মহিলাদের জন্য। ফলে এই রাস্তায় টোটো চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলে বহু মানুষ সমস্যায় পড়বেন। বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তাঁদের মত।

টোটোচালকদের বক্তব্য, সরকারি নির্দেশ মানতেই হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ না মেলায় পড়াশোনা করেও অনেকে ঋণ নিয়ে টোটো কিনে চালাচ্ছেন। এই নির্দেশ তাঁদের জীবিকায় প্রভাব ফেলবে। তবুও যাত্রীদের নিরাপত্তা সবার আগে বলে তাঁরা মনে করেন।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৯ বছর আগে একই কারণে রাজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টোটোর দাপাদাপি রুখতে মাঠে নামতে হয়েছিল খাতড়ার তৎকালীন মহকুমাশাসক তনয়দেব সরকারকে। তিনি বাঁকুড়া জেলার আরটিও দফতরে ই-মেল করে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। মহকুমাশাসক জানিয়েছিলেন, খাতড়া পাম্প মোড়, হাতিরামপুর, সুপুর ও ইঁদপুরে রাজ্য সড়কে রমরমিয়ে টোটো চলছে। এর ফলে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই রাজ্য সড়কে যানজটও বাড়ছে।

প্রায় ৯ বছর পর রাজ্যে সরকার বদলের পর ফের বিষয়টি গুরুত্ব পেল। তবে এবার চাপ আরও উপরমহল থেকে। দুর্ঘটনা এড়ানো এবং গাড়ির গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয়, রাজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রধান রাস্তায় টোটো চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। জেলা শাসকদের কাছে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। বড় রাস্তায় টোটো চলতে দেখা গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি টোটো চলাচলের বিরুদ্ধে নন। কিন্তু বড় বাস চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। যানজট রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমস্ত ডিএম ও এসপিকে প্রধান রাস্তা থেকে টোটো সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তাঁর কথায়, “টোটো চলুক, তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু মেন রোডে অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।”

তবু বাঁকুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে টোটোর দাপট অব্যাহত। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও বাস্তব পরিস্থিতির এই ফারাক নিয়েই এখন কৌতূহলী জেলাবাসী।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande