
আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : পুলিশের উপস্থিতিতেই বাড়িতে ঢুকে সিপিআই(এম) কর্মী স্বামী-স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হরিণাখলা এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে একই বাড়িতে পরপর দু’বার হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গোপাল সরকার ও তাঁর স্ত্রী নমিতা সরকার। বর্তমানে দু’জনেই জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
অভিযোগ, সিপিআই(এম) করার কারণেই স্থানীয় শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা ও হামলার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত, তা তদন্তসাপেক্ষ। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ হরিণাখলা এলাকার বাসিন্দা গোপাল সরকারের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী প্রবেশ করে। ওই সময় বাড়িতে গোপাল সরকার ও তাঁর স্ত্রী নমিতা সরকার ছিলেন। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রথমে তাঁদের দু’জনকে বেধড়ক মারধর করে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে সিধাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ গোপাল সরকার ও তাঁর স্ত্রী নমিতা সরকারের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ নেওয়ার সময়ই ফের কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭ জনের ওই দল পুলিশের সামনেই স্বামী-স্ত্রীর উপর ফের হামলা চালায়। এবার তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে দু’জনেই রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা চললেও অভিযুক্তদের আটক বা ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরে খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় গোপাল সরকার ও নমিতা সরকারকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের সিধাই-মোহনপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকেই আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শুক্রবার আহত দম্পতিকে দেখতে জিবিপি হাসপাতালে যান সিপিআই(এম)-এর পশ্চিম জেলা কমিটির সম্পাদক তথা প্রাক্তন বিধায়ক রতন দাস। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নমিতা সরকার অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় হরিণাখলা এলাকার সজল দেবনাথ, সুজিত রাজভর, চিরঞ্জিত দাস, আকাশ দেবনাথ এবং শান্তি সরকার জড়িত। তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, একই বাড়িতে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দু’বার হামলা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হরিণাখলা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হামলার অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং পুলিশের ভূমিকা—সবকিছু নিয়েই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আক্রান্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ