
কাঞ্চনপুর (ত্রিপুরা), ৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : কাঞ্চনপুর সাব-জেলকে ঘিরে জনৈক বন্দিকে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় গোটা মহকুমায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে সাব-জেলের জনৈক জেলকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জেলকর্মী জামিনী দেববর্মা গত কয়েক মাস ধরে এনডিপিএস মামলায় বন্দি প্রসেনজিৎ দাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। জানা গেছে, গত ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা কাঞ্চনপুর সাব-জেল পরিদর্শন করেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঞ্চনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে মৌখিকভাবে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, অভিযোগটি ৩ সেপ্টেম্বর নথিভুক্ত হয়েছে এবং মামলার নম্বর 32/03-09-2026/127(2)115(2)3/5 BNS বলে জানা যাচ্ছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বন্দিকে কাঞ্চনপুর মহকুমা হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট বা তদন্তে কী ধরনের তথ্য উঠে এসেছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে, এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সাব-জেলের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চাকরিগত কারণে তাঁরা প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে কাঞ্চনপুর সাব-জেলের নিয়মিত দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন পিন্টু সাহা। এরই মধ্যে সাব-জেলটির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে পূর্বের অভিযোগগুলিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বন্দির মতো হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। বিশেষ করে জেলকর্মী ও বন্দির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীন সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কোনও ধরনের নির্যাতন বা অনিয়ম হয়েছে কি না, তদন্তে তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি বলে মত উঠছে।
তবে বর্তমানে সামনে আসা সমস্ত অভিযোগই তদন্তাধীন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো চূড়ান্ত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। প্রশাসনিক তদন্ত এবং পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃতি এবং এর সঙ্গে কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না—তদন্তেই তার উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঞ্চনপুর মহকুমাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা হবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ