
কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.): পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঘোষণার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে বিদ্যালয় শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান’ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তাঁর সরকার কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং কাজ করে দেখাতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে তাঁর সরকার ইন্দু মলহোত্রা কমিটির নির্দেশিকা পুরোপুরি মেনে চলবে। তিনি উল্লেখ করেন, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটাতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। সরকারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ একবারে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কমিটির নির্দেশ মেনে ধাপে ধাপে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মহার্ঘ ভাতা কেবল কোনো ভাতা নয়, এটি আর্থিক সুরক্ষার সাথে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান মহার্ঘতার দিনে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব। একই সাথে তিনি জানান, আসন্ন দুর্গা পাজোর আগেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের আগাম বেতন দেওয়া হবে, যার মধ্যে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এটি বকেয়া ডিএ-র অংশ নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার পরিচালিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে চূড়ান্ত অবস্থান জানতে চেয়েছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের এই কড়া অবস্থানের মাঝেই শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার আশ্বাস দেন। বিগত সরকারের আমলের কথিত অনিয়ম ও অস্বচ্ছ নিয়োগের কারণে শিক্ষকদের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এবার থেকে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনেই শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। কোনোরকম বেআইনি প্রক্রিয়াকে বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, নিশ্চিন্ত থাকুন, কারও প্রতি কোনো অবিচার হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের মূল কাজ শিক্ষাদান, তাই তাঁদের অন্য প্রশাসনিক বা শিক্ষাবহির্ভূত কাজে ব্যস্ত রাখা অনুচিত। সেই উদ্দেশ্যেই প্রতিটি স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে, যাতে মিড-ডে মিলের হিসাব রাখার মতো অতিরিক্ত কাজ থেকে শিক্ষকরা নিষ্কৃতি পেতে পারেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারের নীতি ও গাফিলতির কড়া সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে এক ছাত্রকে সাপে কামড়ানোর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, বিগত তিন বছর ধরে বেশ কিছু স্কুল 'কম্পোজিট গ্রান্ট' বা সামগ্রিক অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই অনুদানের অর্থ সামান্য হলেও তা দিয়ে ফিনাইল বা কার্বোলিক অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী কেনা সম্ভব হতো।
পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোকে আর ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং গৃহীত সমস্ত সিদ্ধান্তকে দ্রুত বাস্তবে রূপায়িত করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি