জন্মাষ্টমীতে গভীর রাত পর্যন্ত ভক্তদের ঢল বাঁকুড়ায়
বাঁকুড়া, ৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): বাঁকুড়া শহর সহ জেলার জয়পুর গোকুলনগর, রাধামাধবপুর, রাইপুর, পাঁচমুড়া, শুশুনিয়া,বড়জোড়া সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত শ্রীকৃষ্ণ ভজনায় মেতে ছিল ছিল বাঁকুড়া। ঐতিহ্যবাহী জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয় গঙ্গাজল
জন্মাষ্টমীতে গভীর রাত পর্যন্ত ভক্তদের ঢল বাঁকুড়ায়


বাঁকুড়া, ৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): বাঁকুড়া শহর সহ জেলার জয়পুর গোকুলনগর, রাধামাধবপুর, রাইপুর, পাঁচমুড়া, শুশুনিয়া,বড়জোড়া সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত শ্রীকৃষ্ণ ভজনায় মেতে ছিল ছিল বাঁকুড়া। ঐতিহ্যবাহী জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয় গঙ্গাজলঘাটির রাধামাধবপুরে। স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুসারে,প্রায় ২৭১ বছর আগে রাধামাধবপুরে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। সেই সময় থেকেই ঐতিহ্য মেনে প্রতিবছর মহাসমারোহে জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়ে আসছে।এই উৎসব উপলক্ষে এলাকাবাসীদের একটা আলাদা আবেগ রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত প্রচুর ভক্তের সমাগম লক্ষ্য করা যায়।সারা বছর এই মন্দিরে নিত্যপুজো হলেও জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মন্দির চত্বর পরিণত হয় এক বিশাল ধর্মীয় মিলনক্ষেত্রে। শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ জিউর মন্দিরকে ঘিরে জন্মাষ্টমীর সকাল থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে এসে পুজো ও প্রার্থনায় অংশ নেন। যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গঙ্গাজলঘাটি থানার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশের নজরদারির মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে চলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মেলা। অন্যদিকে জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে অনুষ্ঠিত হয় শুশুনিয়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ১৮তম বর্ষের খুঁটি পুজো ।বাঁকুড়ার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো শুশুনিয়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির।

এই অনুষ্ঠান শুরুর আগে নেপালের দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ছাতনার জয়েন্ট বিডিও কৌশিক সরকার, ছাতনা থানার এসআই সোমনাথ বেরা-সহ পুজো কমিটির সদস্য ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার জয়েন্ট বিডিও কৌশিক সরকার বলেন, “দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মিলনই এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।খাতড়ার নগড়ী গ্রামেও গভীর রাত পর্যন্ত জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়।এই উৎসবে ব্যাপক জনসমাগম ঘড়ে।জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বড়জোড়া লোকনাথ মন্দিরে বিশেষ উৎসব পালিত হয়। লোকনাথ ও কৃষ্ণ ভক্তদের উপছে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়।দূরদূরান্ত থেকে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। বাঁকুড়া শহরের রামপুর মনোহরতলার গৌরাঙ্গ মন্দির,জঙ্গল মহলের রাইপুর ইসকন কৃষ্ণ মন্দির, পাঁচমুড়া কৃষ্ণমন্দির ইত্যাদি মন্দিরগুলিতে গভীর রাত পর্যন্ত ভক্তদের ভীড় ছিল লক্ষ্য করার মত। গুপ্ত বৃন্দাবন বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের তৈরি জয়পুরের গোকুলনগরে গোকুলেশ্বর মন্দির সহ বিভিন্ন মন্দির মেতে ওঠে জন্মাষ্টমীতে। বাঁকুড়া শহরের ইন্দারাগোড়া নূতনপুকুর জন্মাষ্টমী উৎসব কমিটির উদ্যোগে সন্ধ্যায় বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে ঘট আনয়নের পর সারারাত্রি ব্যাপী চলে পূজাপাঠ।জলট্যাঙ্কি গোড়ায় নবনির্মিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে শুরু হয়েছে জন্মাষ্টমী উৎসব।এই উপলক্ষে বহু ভক্তের সমাবেশ ঘটে।

এদিন সন্ধ্যায় সতীঘাট স্থিত কার্যালয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব ও পালিত হয়।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande