
হুগলি , ৫ সেপ্টেম্বর (হি.স .): অর্থের অভাবে মেধা যেন থমকে না যায়—এই ভাবনাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছিল ‘শিক্ষাঙ্গনে কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত’-এর পথচলা। ২০২৪ সালে সূচনা হওয়া এই অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই পা দিয়েছে তৃতীয় বর্ষে। এলাকার গরিব, দুস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতারও এক অনন্য নজির তৈরি করেছে এই উদ্যোগ।
শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ‘শিক্ষাঙ্গনে কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত’-এ। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট দার্শনিক-শিক্ষাবিদ ডক্টর সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান এবং শিক্ষক সমাজের ভূমিকা স্মরণ করে এদিনের অনুষ্ঠানে উঠে আসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বার্তা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কামারপুকুর মঠ ও মিশনের মহারাজ পুরোবানন্দজী। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক প্রশান্ত দিগার। এছাড়াও ‘শিক্ষাঙ্গন’-এর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শিক্ষক দিবসের আবেগঘন পরিবেশে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা শিক্ষাঙ্গন।
২০২৪ সালে যে ছোট্ট উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা আজ এলাকার বহু পরিবারের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রায় ২০০ জন ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশোনা করছে। অভিজ্ঞ ও পতিতযশা শিক্ষকরা কোনও পারিশ্রমিক ছাড়াই তাঁদের মূল্যবান সময় ও জ্ঞান দিয়ে পড়ুয়াদের তৈরি করে তুলছেন। শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত শক্ত করাই এই শিক্ষাঙ্গনের অন্যতম লক্ষ্য।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেধাবী সন্তানদের কাছে এই অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাই নিছক একটি পড়াশোনার কেন্দ্র নয়, বরং স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি। শিক্ষকদের নিঃস্বার্থ প্রয়াস এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগের এই মেলবন্ধন আগামী দিনে আরও বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ গড়ার পথ প্রশস্ত করবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
শিক্ষক দিবসে রাধাকৃষ্ণনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে ‘শিক্ষাঙ্গনে কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত’ যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—শিক্ষা শুধু অধিকার নয়, সমাজ বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA