সাব্রুমে দুই বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক আরও তিন
সাব্রুম (ত্রিপুরা), ৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দুই মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন তরুণের। গুরুতর আহত আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শান্তিরবাজারস্থিত দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে সাব্রুম মহকুমার সাতচাঁদের
সড়ক দুর্ঘটনা


সাব্রুম (ত্রিপুরা), ৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দুই মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন তরুণের। গুরুতর আহত আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শান্তিরবাজারস্থিত দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে সাব্রুম মহকুমার সাতচাঁদের রামগুয়া এলাকায় কলাছড়া দশরথ দেব মেমোরিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল সংলগ্ন সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, রবিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটা নাগাদ স্কুল সংলগ্ন রাস্তায় দ্রুতগতিতে চলা দুটি মোটরবাইকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে দুই বাইকের আরোহীরা ছিটকে পাকা রাস্তার উপর পড়ে যান। বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করার কাজে হাত লাগান।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুকেশ ত্রিপুরা, সানি দেওয়ান ত্রিপুরা এবং সঞ্জীব ত্রিপুরাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। খবর পেয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে ছুটে আসেন। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ।

এদিকে দুর্ঘটনায় প্রহর ত্রিপুরাসহ আরও দুই তরুণী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই দ্রুত শান্তিরবাজারে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় মোটরবাইক দুটির গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দুটি বাইকের মধ্যে সংঘর্ষ হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহনগুলিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

একইসঙ্গে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সড়কে বেপরোয়া গতি ও অসতর্কভাবে যানবাহন চালানোর প্রবণতা নিয়ে। সামান্য সময় বাঁচানোর জন্য অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালানোর পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, রামগুয়ার এই দুর্ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ। একটি মুহূর্তের ভুলে তিনটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন তরুণ-তরুণীর জীবন এখন সংকটের মুখে।

দুর্ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। নিহতদের পরিবারে কান্নার রোল। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর এবং বেপরোয়া বাইক চালানোর বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande