
আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মধ্য দিয়েই আগামী দিনে বিকশিত ও উন্নত ভারত গড়ে তোলা সম্ভব। সমাজ গঠনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্ব ও অবদান সর্বাধিক। শিক্ষকতার পেশা শুধু একটি কর্মজীবন নয়, এটি একটি মহান ও গৌরবের দায়িত্ব। রবিবার আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত ‘শিক্ষক প্রণাম-২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির ভাষণে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি তথা বিশিষ্ট দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে সর্বদা গর্ববোধ করতেন। তাঁর বহুমুখী কর্মজীবনের মূল ভিত্তি ছিল শিক্ষকতা ও শিক্ষাদানের মহান আদর্শ। তাঁর জীবনদর্শন ও শিক্ষা ভাবনা আজও আগামী প্রজন্মের কাছে পথ চলার উজ্জ্বল দিশারি হয়ে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের জ্ঞানের পূর্ণতা ও দক্ষতার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়, শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের চিন্তাশক্তি, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতের সমাজ ও দেশ গঠনের দায়িত্ব আজকের ছাত্রছাত্রীদের হাতেই ন্যস্ত।
তিনি বলেন, একটা সময় জ্ঞান, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতবর্ষ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থানে ছিল। সেই হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিরাসত ভি, বিকাশ ভি—ঐতিহ্যও, উন্নয়নও’ মন্ত্রকে পাথেয় করে জ্ঞানভিত্তিক ভারত গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান ও শিক্ষায় যারা সমৃদ্ধ, শ্রেষ্ঠত্বের শিখর তাঁদের জন্যই উন্মুক্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালনার লক্ষ্যেই জাতীয় শিক্ষানীতি প্রবর্তন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিকে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিক্ষকদেরও নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের সীমাবদ্ধতার গণ্ডি পেরিয়ে সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। শিক্ষা শুধুমাত্র ক্যারিয়ার গঠনের জন্য নয়, শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের চরিত্র গঠন। একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি জ্ঞানের পূর্ণতা লাভের জন্য দক্ষতার উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত ও গুণগত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। গুণগত শিক্ষাই সমৃদ্ধির পথ। তাই শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গুণগত মান আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, শিক্ষকরা সমাজের পথপ্রদর্শক। শিক্ষক বা গুরু প্রাত্যহিক জীবনে শ্রদ্ধা ও সম্মানের যোগ্য। তাঁদের সম্মান জানানো সমাজের দায়িত্ব। রাজ্যে এই প্রথম মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে ‘শিক্ষক প্রণাম’ অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষা দফতর—এই তিন পক্ষের সমন্বিত প্রয়াসের মধ্য দিয়েই শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিকশিত ভারত গড়ার নতুন যাত্রা প্রতিটি মহাবিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই শুরু করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের কেন্দ্র হিসেবে নয়, দক্ষ, দায়িত্বশীল ও দেশ গঠনে সক্ষম মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মনসহ অন্যান্য অতিথিরা বিদ্যাদেবী সরস্বতী এবং ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিন রাজ্যের বিভিন্ন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষদের হাতে স্মারক তুলে দিয়ে সম্মানিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উচ্চশিক্ষা দফতরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দৈরের সচিব ডাঃ মিলিন্দ রামটেকে, ত্রিপুরা ন্যাশনাল ল' ইউনিভার্সিটির উপাচার্য যোগেশ প্রতাপ সিং, মহারাজা বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ বিভাষ দেব এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আগরতলা)-এর ডিরেক্টর অভয় কুমার। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ