
বারুইপুর, ৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বারুইপুর পুরসভার কাউন্সিলররা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠল। এলাকা জুড়ে কাজ করতে গেলে বাধার মুখে পড়ার পাশাপাশি পুরপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলার বিষয়ে সরব হয়েছেন পুরসভার ১৭ জন কাউন্সিলরই। সোমবার বিকেলে বারুইপুর পুরসভা ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে বারুইপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জলযন্ত্রণা, পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাব এবং আবর্জনা নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকা নিয়ে বারবার সোচ্চার হয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির অভিযোগ ছিল, পুরসভার কাউন্সিলররা কাজ না করে কাটমানি খাচ্ছেন এবং আমজনতাকে নরক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছেন। এমনকি সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বাসিন্দাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছিল তারা।
সোমবার মূলত বিজেপির সেই সমস্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানান পুরসভার কাউন্সিলররা। তাঁদের দাবি, বিজেপির তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। উল্টে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ও পুরকর্মীদের পরিষেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ তোলেন তাঁরা। পুরপ্রতিনিধিদের দাবি, 'আয়ুষ্মান ভারত' ও 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র কাজ বাস্তবায়নে বারুইপুর পুরসভা জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
সাংবাদিক বৈঠকে পুরসভার কাউন্সিলর মিলু গুহ ঠাকুরতা বলেন, “বিধানসভা ভোটের পর থেকেই কাউন্সিলরদের স্বাভাবিক কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পুরকর্মীদেরও পরিষেবা প্রদানে নানাভাবে বাধা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বারুইপুরের পুলিশ সুপারকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। আমরা চাই এলাকায় কাজের সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসুক, যাতে পুরবাসীদের সঠিকভাবে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়।”
যদিও পুরপ্রতিনিধিদের তোলা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভার ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী বলেন, “দিনের পর দিন কাজ না করার কারণেই বর্ষায় ওয়ার্ডগুলি জলমগ্ন হচ্ছে এবং পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কাজ না করার ফলেই সাধারণ মানুষ আজ প্রশ্ন তুলছেন। সাংবাদিক বৈঠক করে এসব মিথ্যা অজুহাত দিয়ে কোনো লাভ হবে না।”
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা