বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহারের দাবিতে সরব গ্রাহক সংগঠন
আগরতলা, ৮ আগস্ট (হি.স.) : রাজ্য সরকার বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের ১০০ শতাংশ দায়ভার বহন করছে, তাহলে সাধারণ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল থেকে বর্ধিত মাশুল আদায়ের বিষয়টি কেন বহাল থাকবে—এই প্রশ্ন তুলে বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাল ত্রিপুরা ই
গ্রাহক সংগঠনের কর্মকর্তারা


আগরতলা, ৮ আগস্ট (হি.স.) : রাজ্য সরকার বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের ১০০ শতাংশ দায়ভার বহন করছে, তাহলে সাধারণ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল থেকে বর্ধিত মাশুল আদায়ের বিষয়টি কেন বহাল থাকবে—এই প্রশ্ন তুলে বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাল ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সাত দফা দাবিতে মঙ্গলবার ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সংগঠনের বক্তব্য, সম্প্রতি ঘোষিত বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের বোঝা রাজ্য সরকার বহন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—এই তিন মাসে যে সমস্ত গ্রাহক বর্ধিত হারে বিদ্যুৎ মাশুল প্রদান করেছেন, তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ পরবর্তীতে সমন্বয় বা অ্যাডজাস্ট করার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে বর্ধিত মাশুলের বিষয়টি আর রাখা উচিত নয় বলে দাবি করেছে সংগঠন।

ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সঞ্জয় চৌধুরী বলেন, রাজ্য সরকার যখন বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের ১০০ শতাংশ দায়ভার গ্রহণ করেছে, তখন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে সেই মাশুল আদায়ের প্রয়োজন নেই। সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ নিগমকে বর্ধিত মাশুলের অর্থ প্রদান করার দাবি জানান তিনি। এতে গ্রাহকদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপও কমবে বলে দাবি সংগঠনের।

এদিনের ডেপুটেশনে স্মার্ট মিটার নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। কোনও গ্রাহককে জোর করে স্মার্ট মিটার সংযোগের আওতায় আনা যাবে না বলে দাবি করেন সংগঠনের সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, গ্রাহকদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড—দুই ধরনের মিটার ব্যবহারের সুযোগ রাখা প্রয়োজন।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ নিগমের পক্ষ থেকে নতুন কানেকশন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রিপেইড ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, গ্রাহকদের মতামত ও প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

সঞ্জয় চৌধুরী আরও বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রেগুলেটরি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই গ্রাহকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সাত দফা দাবি কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহার, গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না চাপানো, স্মার্ট মিটার সংযোগে জবরদস্তি বন্ধ এবং প্রিপেইড-পোস্টপেইড ব্যবস্থায় গ্রাহকের পছন্দের অধিকার বজায় রাখার মতো বিষয়গুলি নিয়ে সংগঠন সরব হয়েছে।

সংগঠনের দাবি, বিদ্যুৎ পরিষেবার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ ও দাবিগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সঞ্জয় চৌধুরী। ফলে বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল ও মিটার ব্যবস্থা নিয়ে আগামী দিনে রাজ্যে গ্রাহক সংগঠনের আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande